খুবির পাঁচ শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আদেশ প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৪২ এএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থী ও তিন শিক্ষককে বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবিসহ তিন দফা উপস্থাপন করেছে সংগঠনটি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সমন্বয়ক আল কাদেরী জয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২০ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্বাভাবিক বেতন বৃদ্ধির হার কমানো, আবাসন সংকট নিরসন, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীবিষয়ক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তকরণ ও অবহিতকরণ এই পাঁচ দফা দাবি জানান। এ দাবি কর্তৃপক্ষ বরাবর জানানোর পর আশানুরূপ কোনো ফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।

প্রশাসনও এ দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়, যদিও পরে সেসব দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসন তাদের আন্দোলনের ন্যায্য ও যৌক্তিকতা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু আন্দোলনের চাপ কমতে না কমতেই তারা স্বৈরাচারী কায়দায় শিক্ষার্থীদের কথা বলার অধিকারের টুঁটি চেপে ধরা হয়। বহিষ্কার ও বরখাস্ত করা হয় পাঁচজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ ও শিক্ষকদের বরখাস্ত ও অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস ও ছাত্র রাজনীতি বন্ধের চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে যে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে, আমরা মনে করি আজকে সেই অগণতান্ত্রিক চর্চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এমন স্বৈরাচারী রূপ দিতে সাহায্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত