করোনাপরবর্তী জটিলতা উন্মোচনের তাগিদ

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৩২ এএম

করোনাপরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাজনিত রহস্য উন্মোচন প্রক্রিয়া শুরুর এখনই সময় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ জ্যানেট ডিয়াজ। এ ব্যাপারে মনোযোগ দিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান বলে জানিয়েছেন এএফপি।

সত্যিকার অর্থে লং কভিডের যথাযথ নাম এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে পোস্ট কভিড কন্ডিশন তথা কভিডপরবর্তী অবস্থা বলে উল্লেখ করে থাকে। কেউ কেউ আবার এর নাম দিয়েছে পোস্ট একিউট কভিড সিনড্রোম অথবা কভিড লং হলারস হিসেবে। কেন কিছুসংখ্যক মানুষ মারাত্মক পর্যায়ের কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হচ্ছে, সুস্থ হতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে এবং করোনামুক্ত হওয়ার পরও ক্লান্তি, স্মৃতিভ্রম, হৃদরোগ ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় ভুগছে তার কারণ সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে।

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি লং কভিড নিয়ে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সেমিনার হতে যাচ্ছে। এদিন বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা একত্রিত হয়ে কভিডজনিত এ পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবেন। এর আনুষ্ঠানিক নামকরণও হবে।

কভিড-১৯ মহামারীর এ পর্যায়ে ভ্যাকসিন ও ভাইরাসের নতুন বৈশিষ্ট্যের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বিশ্ব। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কভিডপরবর্তী জটিলতা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ জ্যানেট ডিয়াজ মনে করেন, এগুলোর পাশাপাশি লং কভিডের দিকেও মনোসংযোগ করা প্রয়োজন। জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়াজ বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি কভিড কী তা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। এ নিয়ে আরও কিছু জিনিস বোঝার বাকি আছে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এ ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় সত্যিকার অর্থে সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।’

৪৮ বছর বয়সী ডিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের শ্বাসতন্ত্রবিষয়ক চিকিৎসক। তিনি ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে দায়িত্বরত আছেন। লং কভিড নিয়ে ডিয়াজ বলেন, ‘এটা এমন এক অবস্থা যার জন্য আরও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, কী কারণে এমন হচ্ছে তা নিয়ে আরও বোঝাপড়া করতে হবে। তাহলে আমরা এটাকে আরও ভালোভাবে প্রতিরোধ করতে পারব, মোকাবিলা ও চিকিৎসা করতে পারব।’

ডিয়াজ জানান, ব্রিটিশসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনে ১ জন আক্রান্তের মধ্যে এক মাস পরও দীর্ঘমেয়াদি উপসর্গ থাকে। তবে কতদিন পর্যন্ত সে উপসর্গ স্থায়ী হবে তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষ করে বয়স্ক এবং আগে থেকে জটিলতায় ভোগা মানুষরা কভিড-১৯ সংক্রান্ত গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত