কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বর কেটে নিজের নম্বর দিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করছেন এক প্রধান শিক্ষক। উপজেলার কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এমন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এক অভিভাবক উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দেওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ছাড়া শিক্ষক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগটির অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক, কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক মনিটরিং অফিসার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে ওই অভিভাবক উল্লেখ করেন, তিনি কাশিনগর ইউনিয়নের বারইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার মেয়ে কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ২০১৯ সাল থেকে মেয়েটি উপবৃত্তি পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের সঙ্গে আলাপ করলে ‘তালিকা দেখবেন’ বলে আশ্বাস দেন। এভাবে কয়েকবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাওয়া যায়নি। পরে পরিচালনা কমিটির দুই-তিনজন সদস্যকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তারাও বিষয়টি দেখবেন বলে সময় নেন। কিন্তু কমিটির সদস্যরা সঠিক সমাধান দিতে পারেননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির কয়েকজন সদস্য বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কিছু অনিয়ম খুঁজে পেয়ে ওই অভিভাবককে সরাসরি বলেন। কমিটির ওই সদস্যরা উপবৃত্তির তালিকা যাছাই করে দেখেন যে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ওই অভিভাবকের মোবাইল নম্বরটি কেটে নিজের মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছেন।
কমিটির সদস্যরা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রায় সময় এই নম্বর থেকে কথা বলতেন, বর্তমানে এটি বন্ধ দেখা যায়। এভাবে আরও অনেকের নম্বর কেটে নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে উপবৃত্তির টাকা ভোগ করছেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের পরিবারের ৮-১০টির বেশি সিম রয়েছে বলেও জানা যায়। উপবৃত্তির তালিকায় এসব সিমের নম্বর ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম গত মঙ্গলবার দুপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স শেষ পর্যায়ে। উপবৃত্তির তালিকায় আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি কীভাবে বসানো হয়েছে তা জানি না।’ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকিনা বেগম বলেন, ‘বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
