ডিজিটাল উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:১৮ এএম

দেশে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগে আগ্রহী করতে ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরি করবে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্র্তৃপক্ষ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) ‘ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবন ইকো-সিস্টেম উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া সভায় প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ৭ প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একনেক সভায় সাতটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১০ হাজার ৯৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। গণভবন থেকে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন।

একনেক কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ^ব্যাংক ঋণ দেবে ২৫৫ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। একনেক সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

আইসিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর পাশাপাশি এ সেক্টরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইসিটি বিভাগ। এছাড়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সারা দেশে আরও অধিক সংখ্যক হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের উল্লেখ রয়েছে। সম্ভাবনাময়ী খাত ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ খাতের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূর করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, প্রথমত ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবিত আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইনোভেশন হাব পরিচালনা এবং নতুন উদ্যোক্ত াদের স্টার্ট-আপ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব সফটওয়্যার পার্ক গড়ে তোলা হবে। যাতে দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এজন্য প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্য ৬ প্রকল্প : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পটি প্রথম সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ বেড়ে হচ্ছে জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং ব্যয় বেড়ে হচ্ছে ৬ হাজার ৪৫৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত