ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে আরও তিন নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আগের আদেশের ধারাবাহিকতায় সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে এ নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত।
প্রথম নির্দেশনায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্র্তৃপক্ষকে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী, পূর্বাচল, যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি থেকে পানি ছিটানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় নির্দেশনায় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর জন্য পানি সরবরাহে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) এমন পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে যাতে সড়ক বিভাজনে থাকা ছোট গাছগুলোর ওপরও পানি ছিটানো হয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ডিএনসিসির পক্ষে আইনজীবী তৌফিক ইনাম ও ডিএসসিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, ঢাকায় বায়ুদূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি রুল জারি করে হাইকোর্ট। পরে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে ৯টি নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। এর মধ্যে ঢাকায় নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ চলছে এমন এলাকায় চারপাশ ঘিরে রেখে কাজ করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, ঢাকার বিভিন্ন সড়কে এবং উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ চলছে এমন এলাকায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পানি ছিটানোসহ আরও নির্দেশনা ছিল।
তিনি বলেন, ‘কিছু পদক্ষেপের ফলে গত বছর এ সময়ে ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কম ছিল। কিন্তু করোনাপরবর্তী সময়ে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা ফের বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান এক নম্বরে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বায়ুদূষণ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করা হলে এ আদেশ আসে।’
