সরকার কর্তৃক দেশজুড়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ নিঃসন্দেহে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আনন্দিত করেছে। ইসলামের মহান বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এসব মসজিদ। ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভূমিকায় নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এসব কমপ্লেক্স বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রারই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
মসজিদ কমপ্লেক্সগুলোতে থাকছে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অজু ও নামাজের ব্যবস্থা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, গবেষণাগার, বই বিপণন কেন্দ্র, হিফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষাকেন্দ্র, অতিথিশালা, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিস, গাড়ি পার্কিং ইত্যাদির সুযোগ-সুবিধা।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদগুলো তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এ-ক্যাটাগরিতে ৬৪টি জেলা শহরে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৯টি চারতলা মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এই মসজিদগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ২ হাজার ৩৬০ দশমিক ০৯ বর্গমিটার। বি-ক্যাটাগরিতে নির্মাণ করা হচ্ছে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৫টি তিনতলা মসজিদ। এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার। সি-ক্যাটাগরিতে নির্মাণ করা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার ১৬টি মসজিদ। এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ২ হাজার ৫২ দশমিক ১২ বর্গমিটার। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নিচতলা ফাঁকা থাকবে।
প্রতিটি মসজিদের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে এ-ক্যাটাগরিতে ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা, বি-ক্যাটাগরিতে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং সি-ক্যাটাগরিতে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ-ক্যাটাগরির মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ১২০০ এবং বি ও সি-ক্যাটাগরির মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ৯০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্পপরিচালক মো. নজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘এ বছরের এপ্রিলে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেপ্টেম্বরে ৬০টি এবং ডিসেম্বরে ৬০টিসহ মুজিববর্ষে সর্বমোট ১৭০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে।’
বর্তমানে প্রকল্পের মোট কাজের ৩২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫৬০টি মডেল মসজিদের সবগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হবে।’ সরকারের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘একই সময়ে কোনো সরকারের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক মসজিদ নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া বিশে^ এটিই প্রথম।’
আলেমরা মনে করছেন, এসব মসজিদ ইসলামের প্রচার-প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দারুণ ভূমিকা পালন করবে। সন্ত্রাস, মাদক, নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুকসহ সব ধরনের অপরাধ বন্ধে এই বৃহত্তর প্লাটফর্ম থেকে ইমামরা আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
