কমলগঞ্জে মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী ‘কাং’ খেলা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:১০ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রতি বছরের মতো এবারও মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘কাং’ খেলার টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ মণিপুরী কাং ফেডারেশনের আয়োজনে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের নয়াপত্তন গ্রামে কাংশং স্থানে এ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯৭ সাল থেকে কমলগঞ্জ উপজেলায় ‘কাং’ খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই মণিপুরী সমাজে কাং খেলার প্রচলন ছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ভারতের মণিপুরে রাজত্বকারী রাজা লোইতোংবার শাসনামলে এই ‘কাং’ খেলার উদ্ভব ঘটে।

বাংলাদেশের বসবাসরত মণিপুরী সম্প্রদায়ের বাইরেও ভারতের আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মণিপুর রাজ্যেও এই খেলাটির খুব প্রচলন রয়েছে। খেলাটি পরিচিতি পেয়েছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশেও। কিন্তু জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে ওই খেলা এখনো স্বীকৃতি পায়নি। তা আদায়ের লক্ষ্যেই এখন লড়তে চাইছে ‘কাং’ খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ মণিপুরী কাং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইবুংহাল সিংহ শ্যামল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবছর কমলগঞ্জে মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘কাং’ খেলার টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর নিংতম কাং টুর্নামেন্টে মণিপুরী সম্প্রদায়ের পুরুষদের ৮টি দল ও মহিলাদের ৫ টি দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতি শুক্রবার পুরুষের এবং শনিবার মেয়েদের খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কাং টুর্নামেন্টের সদস্যসচিব আওয়াংতাবম সমরেন্দ্র বলেন, কাং খেলার প্রধান উপকরণ হিসেবে হাতির দাঁত, কচ্ছপের বুকের খোল, মহিষের শিং দিয়ে তৈরি কাং ব্যবহার হয়। ৭টি সরলরেখায় উভয় দলের ৭জন করে খেলোয়াড় পরস্পরের বিপরীতে থাকেন । দুজন আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করেন। স্কোরবোর্ড থাকে। মসৃণ কোর্টে কাং (এক ধরনের ফাইবারের তৈরি প্লেট) বিপক্ষের খেলোয়াড়দের দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত