খাগড়াছড়ি জেলা সদরে চার লাইনের সড়ক নির্মাণকাজে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া কাজে বারবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লি. (বিটিসিএল) এর তার কাটা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে করে জেলা সদরের টেলিফোন সেবা ব্যাঘাত ঘটছে। গ্রহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে সড়কে কাজ করার সময় আবারও বিটিসিএলের তার কাটা পড়ে। এরপর থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের অধিকাংশ বিটিসিএলের টেলিফোন সেবা এখনো বন্ধ রয়েছে।
বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, টেলিফোন সেবা স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে।
এইবার তার কাটা পড়েছে কলেজ রোডের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে। এর আগে চেঙ্গী স্কোয়ার এলাকায় দুই বার তার কাটা পড়েছিল।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের চেঙ্গী স্কোয়ার থেকে পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে সেতু পর্যন্ত এক কিলোমিটার চার লাইনের সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এই সম্প্রসারণ কাজে সড়কের এক পাশে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে নিচ্ছে। মাটি তোলার সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কাজ করায় বারবার বিটিসিএল এর তার কাটা পড়ছে।
এ পর্যন্ত তিন বার তার কাটা পড়েছে। একবার কাটা পড়লে দুই-তিন দিন টেলিফোন সেবা বন্ধ থাকে। এতে করে টেলিফোনের গ্রহকরা ভোগান্তিতে পড়েছে।
খাগড়াছড়ি বিটিসিএল এর সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, এমনিতেই ভূগর্ভস্থ টেলিফোন লাইনটি পুরোনো ও জীর্ণশীর্ণ। তার ওপর বারবার তার কাটা পড়ছে। তাই টেলিফোন সেবাও বারবার ব্যাঘাত ঘটছে। ভূগর্ভস্থ তার একবার কাটা পড়লে ম্যানুয়ালি জোড়া লাগাতে হয়। টেকনিশিয়ানরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেও এই কাজ সমাধান করতে দুই-তিন দিন সময় লাগে।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরে বর্তমানে কতটি টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তার হিসাব তিনি দিতে পারেননি। তার কী রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আগে দেখতে হবে।
তিনি জানান, ভূ-গর্ভস্থ এই তারগুলোর মাধ্যমে খাগড়াছড়ির মূল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টের বক্সে সংযোগ করা হয়েছে। তাই এইগুলো টেলি যোগাযোগের খুবই গুরুত্বপূর্ণ তার।
খাগড়াছড়ি সদরের নারিকেল বাগান এলাকার এক গ্রাহক সবুজ মিয়া জানান, তিনি বিটিসিএল এর টেলিফোনের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছেন। বর্তমানে লাইনটি বন্ধ আছে। তাই তিনি অনলাইনের অনেক কাজ করতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে চার লাইন সড়ক সম্প্রসারণের কাজে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ এর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
