করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত হার ২.৩০ শতাংশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৩৮ এএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত এক দিনে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৩১৬ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৭৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর জুন, জুলাই ও আগস্টে সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় ওঠে। তখন অধিকাংশ দিনই শনাক্তের হার ছিল ২০-২৫ শতাংশের মধ্যে। এর মাঝে এক দিন শনাক্ত হার সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশেও ওঠে। সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। ক্রমাগত কমতে কমতে গত ১৪ জানুয়ারি শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। তার এক সপ্তাহ পর ২১ জানুয়ারি এই হার ৪ শতাংশের নিচে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি তা ৩ শতাংশের নিচে আসে। এরপর আরও দুই দিন এই হার তিনের নিচে নামলেও তা ছিল তিন শতাংশের ঘরেই। ফলে শনাক্ত হার কমতে শুরুর পর গত দুদিনে এই হার দুই শতাংশের ঘরে নামল।

এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ৩১৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৮ জন হয়েছে। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ১৬ জনকে নিয়ে দেশে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ২২১ জনে দাঁড়িয়েছে। গত এক দিনে চিকিৎসাধীন আরও ৫৫৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩১ জন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৬টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৮টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৬২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২০৬টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৭৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৫৭৩টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৮ লাখ ৩৫ হাজার ২০১টি।

গত এক দিনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ আর ৪ জন নারী। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ১২ জন ঢাকা বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ৪ জন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিল।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৮ হাজার ২২১ জনের মধ্যে ৬ হাজার ২২৯ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৯২ জন নারী। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬০ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এ ছাড়াও ২ হাজার ৪৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯৩৮ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৪১০ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৬৬ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৬২ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৬ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৮৪ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৫১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৭০ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৫৪ জন খুলনা বিভাগের, ২৪৮ জন বরিশাল বিভাগের, ৩০৭ জন সিলেট বিভাগের, ৩৫৮ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৯০ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত