ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলনের মুখ্য চরিত্র রাকেশ টিকায়েত। প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে কৃষকদের সংঘর্ষের পর আন্দোলন এক অর্থে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই থুবড়ে পড়া আন্দোলনকেই আবার চাঙ্গা করে তোলেন রাকেশ। তিনি একাই গোটা আন্দোলনের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন। প্রায় তিন দশক আগে তার বাবা রাজধানী দিল্লির উদ্দেশে এক বিশাল কৃষক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। ওই আন্দোলনের ফলে ভারতের কৃষিভিত্তিক সমাজে ব্যাপক সংস্কার হয়েছিল। এখন রাকেশ টিকায়েতের সময়ে ভারত কি ফের কৃষি সংস্কারের ভেতর দিয়ে যাবে, এখন তাই দেখার বিষয়। ৫১ বছর বয়সী রাকেশ ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। অশ্রুসিক্ত এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি সরকার বিতর্কিত কৃষি আইনগুলো বাতিল না করে, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’ তার এমন বক্তব্য পাঞ্জাব-হরিয়ানা রাজ্য ছাড়িয়ে অন্য রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় শেয়ার হয় ভিডিওটি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে টিকায়েতকে বলা হয়েছিল গাজীপুর সীমান্ত থেকে কৃষকদের সরিয়ে নিতে। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আরও কয়েক হাজার কৃষক ও ট্রাক্টর গাজীপুর সীমান্তে যুক্ত হয়। উত্তরপ্রদেশের এক কৃষক গিরিরাজ সৈনি বলেন, ‘সেদিন সবাই কেঁদেছিল, শুধু টিকায়েত নয়। সেদিন যেন আন্দোলনের পুনর্জন্ম হয়।’ গত নভেম্বর থেকে দশ হাজারের বেশি কৃষক নতুন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর এত বড় বিক্ষোভের মুখোমুখি হননি তিনি।
রাকেশ টিকায়েতের বাবার নাম মহেন্দ্র টিকায়েত। মহেন্দ্র টিকায়েত ১৯৮৮ সালে পাঁচ লাখ কৃষক নিয়ে রাজধানী ঘিরে ধরেছিলেন আখের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। রাকেশের আজকের এই বিক্ষোভে এমন অনেকেই আছেন যারা তার বাবার বিক্ষোভের সময়ও উপস্থিত ছিলেন। ২০১৩ সালে টিকায়েতের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উত্তরপ্রদেশে টিকায়েতের পাশে উপস্থিত হওয়ায় সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি। সাংবাদিক অজয় বসু জানান, টিকায়েত যেভাবে কৃষকদের একাট্টা করছেন তা বিজেপি সরকারের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিন দিন। কেন্দ্রীয় সরকার ভেবেছিল জানুয়ারির ২৬ তারিখই আন্দোলন শেষ হবে সহিংসতার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সহিংসতাই আন্দোলনকে নতুন করে চাঙ্গা করেছে টিকায়েতের হাত ধরে।
