জয়পুরহাটের অলিগলি-পথেঘাটে নামসর্বস্ব সমবায় সমিতির নামে চলছে রমরমা দাদন ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম। ১০ শতাংশ সুদের কথা বলে সুকৌশলে ৭০ শতাংশ সুদ নেওয়ার অভিযোগসহ নানা রকম লোভনীয় এফডিআর, প্রতিদিনের কিস্তি ও মোটা অঙ্কের সুদের বিনিময়ে কেউ স্থানীয় সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়ে আবার কেউ নিবন্ধন ছাড়াই এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আর মাঝেমধ্যেই ঘটছে কোটি কোটি টাকা নিয়ে কোনো কোনো সমিতির লাপাত্তা হওয়ার ঘটনা।
সমিতিগুলোর তহবিল রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণেই দরিদ্র মানুষের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে মানবেতর জীবন কাটানো ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা জানিয়েছেন।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, জয়পুরহাটে অনিয়ম করে প্রায় ১২শ সমবায় সমিতির নিবন্ধন দেওয়া আছে। নিবন্ধন ছাড়াও চলছে নামে-বেনামে প্রায় কয়েকশ সমিতির কার্যক্রম। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরই ওই তালিকায় থাকা শহরের ‘বিনিময় সমবায় সমিতি’ প্রায় ৯ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এছাড়াও জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, তিলকপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সমিতি কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলায় যত্রতত্র সমিতির কার্যক্রম বিদ্যমান। তারা লাখ লাখ টাকা এফডিআর, প্রতিদিনের কিস্তি, মোটা অঙ্কের সুদের বিনিময়ে দাদন ব্যবসা ও ব্যাকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সব সমিতিতে আমানত সুরক্ষা নিবন্ধক ও সমিতির যৌথ স্বাক্ষর থাকার বিধান আছে। সেটি গণমাধ্যমকর্মীর চোখে পড়লে নড়েচড়ে বসে সমবায় সংশ্লিষ্টরা। তারপর শুধুমাত্র কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ সমিতিতে যৌথ স্বাক্ষরের চিঠি দিয়েছেন জেলা সমবায় অফিস।
জয়পুরহাট শহরের রেলগেট এলাকার ফুটপাতের পানের দোকানদার আলম। তিনি ২০১৪ সালে বোনের বিয়ের জন্য শহরের বিনিময় আদর্শ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি. এ তিন লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর উধাও হন সমিতির পরিচালক সবুজ সরদার। এ ঘটনায় আটকে যায় তার বোনের বিয়ে। এমনই নানা সমস্যায় পড়েছেন দরিদ্র হাজারো পরিবার। এছাড়াও স্থানীয়রা জানান, সমবায় সমিতির নামমাত্র নিবন্ধন নিয়ে এরা মূলত চড়া সুদের ব্যবসা করছে।
প্রগতি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি. এর পরিচালক আসাদুজ্জামান মানিক বলেন, সমবায় টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না। সজাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি. এর পরিচালক বাবুল হোসেনসহ অনেক সমিতির পরিচালক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জয়পুরহাট জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভাপতি নূরুল আমিন প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি সমবায় সমিতিগুলো গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাচ্ছেÑ এটার দায় কার?
জয়পুরহাট জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেন, সদস্যের বাইরে অনেকেই কার্যক্রম করছে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে সব সমবায় সমিতি বিধি মোতাবেক আমানত সংরক্ষণ করতে পারে না তাদের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রেখেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আরও নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।
জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রত্যেকটা সমিতির তথ্য যাচাই-বাছাই করে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করে থাকে, তবে সেগুলো বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
