অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার মান বাড়েনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) চিকিৎসাকেন্দ্রের। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, জরুরি অবস্থায় শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা না দেওয়া, গুরুতর অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, করোনার অজুহাতে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়েছে। সাধারণ কোনো রোগ নিয়েও চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে করোনার অজুহাতে ওষুধ দেন না চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। এ ছাড়াও সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো রকম চিকিৎসাসেবা পাননি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানও। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের পরীক্ষা নিচ্ছে ইবি কর্র্তৃপক্ষ। আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়ায় ক্যাম্পাসের আশপাশ এলাকা ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন মেসে অবস্থান করছে অন্তত ১০ হাজার শিক্ষার্থী। জায়গা সংকট থাকায় এক কক্ষে গাদাগাদি করে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে তাদের। এতে বিভিন্ন সংক্রামক রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়টির মেডিকেল সেন্টারটি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকায় রাতে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে করোনার অজুহাতে ওষুধ দেন না চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। শুধুমাত্র রোগের বিস্তারিত জেনে ওষুধ ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন ডাক্তার। তবে প্রায় সময় বহিরাগতদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায় সেখানে।
ইবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে গত নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার রাখার নির্দেশনা চেয়েছিলাম। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ গাড়ি সার্ভিস না দেওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। আর হল বন্ধ থাকলে ওষুধ সেবা দেওয়া হয় না। শুধু ইমারজেন্সি রোগীদের জন্য দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সেবার জন্যই এই চিকিৎসাকেন্দ্র। শিক্ষার্থীরা সেবা না পেলে এই মেডিকেল রেখে লাভ কী? শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সেবার মান বাড়ানোর জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রকে অবহিত করা হয়েছে।’
