৮ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

ভ্যাকসিন ক্রয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৫৯ এএম

দেশের মানুষের জন্য করোনার টিকা নিশ্চিতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে বাংলাদেশকে রেকর্ড পরিমান সহায়তা করতে যাচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সহজ শর্তে এ ঋণ সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যাশা করেছিল, এডিবি যেন কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়। গত মাসে এ সম্পর্কিত সভায় এডিবি ৯৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এডিবি ভ্যাকসিন কেনা বাবদ এ অর্থ একসঙ্গে ছাড় করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও এডিবি ঢাকা অফিসের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এডিবির ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে করোনা ভ্যাকসিন কেনার বিষয়টি এডিবি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। এজন্য এডিবি একটি নীতিমালাও তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়ে অর্থায়ন আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, করোনার টিকা কেনার জন্য এর আগে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে ২৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে চিঠি দেয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার, এডিবির কাছে ৫০ কোটি ডলার, জাইকার কাছে ৫০ কোটি ডলার, এআইআইবির কাছে ৫০ কোটি ডলার, জার্মানির কাছে ২৫ কোটি এবং ফ্রান্সের কাছে ২৫ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ইআরডি।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, গত মাসে ভ্যাকসিন ইস্যুতে এডিবির সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। ইআরডির এ বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইআরডির পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন কেনা বাবদ এডিবির সহায়তা চাওয়া হয়। তারা ৯৪ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ হিসাবে দিতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে)। এ টাকা অনেকটা বাজেট সহায়তার মতো। করোনা ভ্যাকসিন ক্রয় ও এর প্রয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমে এ অর্থ ব্যয় করতে পারবে সরকার।

সাধারণত এডিবির ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণ ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য নেওয়া এ ঋণের সুদ হার ও শর্ত এমনটিই হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইআরডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেগুশিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রস্তাবনা প্রস্তুতের কাজ চলছে। শিগগিরই এর কাজ শেষ হবে। কারণ এ প্রস্তাবনা প্রকল্পের আদলে হবে না। এডিবি এককালীন এ অর্থ ছাড় দেবে। এখন কোন পারপাসে এ টাকা কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা উল্লেখ করে এডিবিকে জানাতে হবে।’

এর আগে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেয় এডিবি। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা। জাপানের আর্থিক সহায়তা এডিবির গঠন করা ‘এশিয়া প্যাসিফিক ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড’ থেকে এ অর্থ দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত