ভারতের গত লোকসভা নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংহতিকে দেখা গিয়েছিল বিজেপির হয়ে প্রচার করতে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপিরই প্রতিপক্ষ হতে চলেছে হিন্দু সংহতি। রীতিমতো রাজনৈতিক দল গড়ে এবার সক্রিয় হচ্ছে হিন্দু সংহতির নয়া রাজনৈতিক দল ‘জনসংহতি’। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠা দিবসেই রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিয়ে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী হিসেবে পরিচিত সংগঠনটি।
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস বিবৃতি দিয়ে দল ঘোষণা করার পর হিন্দু সংহতির সভাপতি বর্তমানে জনসংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা দিল্লির নির্বাচন কমিশন থেকে দলের নিবন্ধন পেয়ে গিয়েছি। কিন্তু নিয়ম অনুসারে আমরা কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক পাচ্ছি না। আপাতত ফ্রি সিম্বল নিয়ে ভোটযুদ্ধে আমাদের নামতে হবে।’
দেবতনু বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু বাঙালির নিজস্ব রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে। বিজেপি সেই জায়গা নিয়ে উঠতে পারেনি এখনো। তাই আমাদের এই দল গঠন আবশ্যক হয়ে পড়েছে।’
বিজেপির হিন্দু ভোট ভাগ করে হিন্দু সংহতি কি বর্তমান শাসক দল তৃণমূলের সুবিধা করতে চাইছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভের সঙ্গে দেবতনু বলেন, ‘বিজেপি আমাদের গুরুত্ব দেয় না। আমরা হিন্দু ভোট কাটতে পারব বলে ওরা মনে করে না। আর যে ভোটটা আমরা কাটব সেটা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকিরা বিজেপিকে ফিরিয়ে দেবে। ওরাই তো এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্পদ।’ তবে আব্বাস সিদ্দিকিকে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল উভয়েই নিজেদের দিকে টানতে চাইছে।
হিন্দু সংহতির কী হবে এ প্রশ্নের উত্তরে দেবতনু বলেন, ‘হিন্দু সংহতি একটি স্বাধীন সংগঠন হিসেবে কাজ করবে। জনসংহতি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ৪০টি আসন এবং দক্ষিণবঙ্গে ১৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে আমরা বিজেপিকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। হিন্দুরা এখন বিজেপির ওপর আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না।’
এদিকে দেবতনুর এই ঘোষণায় হিন্দু ভোট ভাগ হয়ে পড়বে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি পক্ষের মতে, হিন্দু সংহতির বহু কর্মীই সরাসরি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি এতদিন অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই পরিচিত ছিল তারা। তাদের কাজ মাত্র কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় সীমাবদ্ধ। তবে অপরপক্ষের মতে, এতে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি ধাক্কা খাবে। লাভবান হবে তৃণমূল।
