মসজিদে শিশুরা স্বাগত

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৫২ এএম

আমাদের দেশে শিশুদের বয়স চার বছর পেরোলে মক্তবে আরবি শিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ইসলামের মৌলিক বিষয় কোরআন, ইমান-আকিদা, ইবাদত, হালাল-হারাম ও আল্লাহর পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি সেখানে শেখানো হয়। মানবজাতির অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোমলমতি শিশুরা। তাদের মানসিক বিকাশে ধর্মের সঠিক পাঠদান জরুরি। তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা মা-বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।  বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমলমতি শিশুদের মধ্যে নামাজের বেশ আগ্রহ দেখা যায়। সমঝদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বড়দের হাত ধরে মসজিদে যেতে মুখিয়ে থাকে। তবে সমস্যা হলো, মসজিদে গেলে তারা হই-হুল্লোড় ও দুষ্টুমি করে। এ কারণে মসজিদে শিশুদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করতে দেখা যায় অনেক স্থানে। তাদের প্রতি বেশ রূঢ় আচরণও করে থাকেন অনেকে। আবার অনেকের ধারণা, প্রাপ্তবয়স্কদের কাতারে শিশু দাঁড়ালে পেছনের মানুষগুলোর নামাজ হবে না, তাই তারা তাকে জোর করে পেছনে ঠেলে দেন। এটি অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়। এমন বিরূপ ব্যবহার তাদের কোমল মনে প্রচ- আঘাত দেয় এবং মসজিদ সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি করে।

শিশুমনে মসজিপ্রেমের বীজ বপন করা আমাদের দায়িত্ব। মসজিদে আসার প্রতি উৎসাহিত করতে পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। মসজিদের আদব ও নিয়মনীতি শান্তভাবে তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে। কোনো ভুল করে ফেললে কোমলভাবে তাদের ভুল ধরিয়ে দিতে হবে। এভাবে মসজিদ সম্পর্কে তার মনে ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হবে।

তুরস্কের বিভিন্ন মসজিদে লেখা আছে, ‘নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন।’ তাই আমাদের দেশের মসজিদগুলোয় শিশুদের আনাগোনা বাড়াতে অভিভাবকদের পাশাপাশি ইমামদেরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণকারী মানুষগুলোকে শিশুমনে মসজিদপ্রেমের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।

একবার ভাবুন, আমরা যদি আদর্শ অভিভাবক হতে না পারি তাহলে আদর্শ প্রজন্ম গড়ে উঠবে কী করে? তাই আমাদের নিজেদের আদর্শ অভিভাবক হিসেবে তৈরি হতে হবে। শিশুদের প্রতি সদয় হতে হবে। মসজিদে অবশই শিশুদের প্রতি কোমল আচরণ করতে হবে।

লেখক : পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত