কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী আটজনের নামের একটি তালিকা ইতিমধ্যে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তবে তালিকায় থাকা ছাদেক হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ছাদেক হোসেন ভূঁইয়ার পরিবারের এক সদস্য দেশের শীর্ষ জঙ্গিদের একজন। ইতিমধ্যে বিষয়টি বিভিন্নভাবে নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে। কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে এলাকায় লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
নেতাকর্মীরা আরও জানান, ছাদেক হোসেনের আপন ভাতিজা রাশেদুন্নবী ভূঁইয়া ওরফে টিপু সুলতান দেশের শীর্ষ জঙ্গিদের একজন। সে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) ও আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে চিহ্নিত ভয়ংকর জঙ্গি মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক জিয়ার বিশ্বস্ত সহযোগী। পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিমউদ্দিন সামাদ হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যা ও জঙ্গি কর্মকা-ের ঘটনায় সে এখন কারাগারে রয়েছে।
উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হক বলেন, ‘ছাদেক হোসেন ভূঁইয়ার পরিবার জঙ্গি ও সন্ত্রাসীর পরিবার। তাকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিব্রত। এবার মেয়র পদের তালিকায় তার নাম থাকায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তিনি শুধু জঙ্গির পরিবারের সদস্যই নন, তার সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদেরও ভালো যোগাযোগ রয়েছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছাদেক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগ করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করি। সেই সময় থেকে দলের বিভিন্ন পদে ছিলাম। এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ওই জঙ্গির বাবা আমার আপন ভাই না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওই জঙ্গি ছাদেক ভূঁইয়ার আপন ভাতিজা।’
