চিকিৎসকসহ নানা সংকটে ‘জোড়াতালি’ দিয়ে চলছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১০ জন। যে কয়জন আছেন, তারাও আবার অনিয়মিত। সাধারণ রোগীরা হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের রেফার্ড করে পাঠানো হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে ভালুকার স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার ওইসব রোগীরা। গত শনিবার হাসপাতালটিতে সরেজমিন ঘুরে এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সন্নিকটে থাকা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও শূন্য পদ রয়েছে ১৭টি। বর্তমানে ১৯ জন চিকিৎসক নিয়োজিত থাকলেও প্রেষণে (অন্যত্র) রয়েছেন নয় জন। ফলে ৩৬ জনের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে ১০ জন দিয়ে। পাশাপাশি অন্যান্য পদেও রয়েছে অনেক শূন্যপদ। দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৬ জন নার্সের পদ শূন্য রয়েছে ৩টি। চতুর্থ শ্রেণির ৩০ জন কর্মচারীর স্থলে রয়েছেন ১২ জন।
চিকিৎসা নিতে আসা ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লিপি রানী সরকার বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি বিভাগের ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানকে হাসপাতালে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে আবাসিক চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমার স্বামীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেলি শারমীন বলেন, ‘ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান তার মনমতো একদিন পর পর অফিস করেন। অন্যদিকে ডাক্তার জান্নাতুন নাঈমও ১ মাস ২০ দিন যাবৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাছাড়া ডাক্তার জয়নাল আবেদীনও এক দিন পর পর অফিস করেন। তবে কয়েকদিন যাবৎ তিনি ছুটির দরখাস্ত দিয়ে চলে গেছেন। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
