সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হয়নি টাকার কারণে

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৪১ এএম

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রক্রিয়া টাকার অভাবে থমকে আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুুল মোমেন। তিনি বলেন, আমরা টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারিনি। অনেক টাকা! প্রাথমিক আলোচনায় প্রতি বছর ৬০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গতকাল রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান তিনি।

ঢাকায় বিভিন্ন বিদেশি মিশনের জুনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রাঙ্গণে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কূটনীতিকরা। আলোচনা পর্বে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, একাডেমির রেক্টর মাসুদ মাহমুদ খন্দকার বক্তব্য দেন।

মোমেন বলেন, ভাষাভাষীর দিক থেকে বাংলা পঞ্চম বৃহত্তম ভাষা। প্রায় ৮৭ কোটি লোক এই ভাষায় কথা বলে। বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কোনো আপত্তি নেই। তারা বলেছে, প্রথম পাঁচটি ভাষা হয়েছিল জাতিসংঘ যখন সৃষ্টি হয়, পরবর্তী সময়ে একটি নতুন ভাষা হয়েছে যে আরবি। এরপর প্রায় ১৯ বছর আরবি ভাষাভাষী দেশগুলো এর খরচ বহন করেছে। জাতিসংঘ সব সময় খরচ নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন থাকে। জাপানি, হিন্দি ও জার্মান ভাষার জন্যও প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই কারণে সেগুলোও দাপ্তরিক ভাষা হয়নি।

জাতিসংঘে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন একটা বাংলা রেডিও পেয়েছি, প্রত্যেক সপ্তাহে অনুষ্ঠান করে। এশিয়ার ওপর ইউএনডিপির যে রিপোর্টটা হয়, সেটা তারা ইংরেজির সঙ্গে বাংলাও করে, তাদের পয়সায়। আমরা অতিরিক্ত পয়সা দিই না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আশা একদিন না একদিন আমরা আরও ধনী হব, বাংলার প্রতি মানুষের নজর বাড়বে। উন্নত হলে অনেকে বাংলা শিখবে আর আমাদের প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশে থেকে থেকে বাংলা শেখাবে। তখন সে ক্ষেত্রে প্রবাসীদের প্রজন্ম যাতে বাংলা ধরে রাখতে পারে, সেটার দিকে খেয়াল রাখা উচিত। এগুলো করলে একদিন হয়তো জাতিসংঘের অন্যতম ভাষা বাংলাও হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত