লালখান বাজার-বিমানবন্দর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সমঝোতা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:২৪ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মধ্যে সমঝোতার মধ্য দিয়ে সাড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজে আর বাধা রইল না। পূর্বনির্ধারিত নকশার আংশিক পরিবর্তন করেই সিডিএ’র নেয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলবে। মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এরিয়া কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস।

এ প্রসঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বন্দরের আপত্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। বারিক বিল্ডিং থেকে বন্দর ভবন পর্যন্ত অংশের অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা এখন সমাধান হয়েছে। এই অংশে রাস্তার মাঝখান দিয়ে এখন নির্মাণকাজ হবে। এতে বন্দরের কোনো সমস্যা হবে না। তা ছাড়া এখন আর প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশে থাকা বড় ভবনগুলো ভাঙা পড়বে না। এ নিয়ে বন্দরের সঙ্গে সিডিএর পারস্পরিক সমঝোতা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের প্রায় তিন শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ নিয়ে এত দিন কিছু জটিলতা থাকলেও আমাদের নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল না। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ৭ কিলোমিটারেরও বেশি অংশে নির্মাণকাজ হয়েছে। পিলার ও গার্ডার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আশা করি ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লালখান বাজার থেকে এই এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দর যাওয়া যাবে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই সিডিএর নেয়া চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত চার লেনবিশিষ্ট প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যৌথভাবে দরপত্র পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও র‌্যাঙ্কিন। এর দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটির পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২০ সালের মধ্যেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ প্রকল্পের অধীনে নয়টি জংশনে ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) থাকার কথা রয়েছে। চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রশস্ততা হবে ৫৪ ফুট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত