এশিয়ায় ব্যবসায়িক কার্ড অদলবদল না করা পর্যন্ত কোনো বৈঠকই শুরু হয় না। এশিয়ার দেশগুলোতে যেকোনো মিটিংয়ের শুরুতেই একপক্ষ অন্যপক্ষের হাতে বিজনেস কার্ড ধরিয়ে দেয়। এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, দুপক্ষই কার্ড গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে নতুন পরিচিত হওয়া ব্যক্তিটির পদবি ও অবস্থান দেখে নেয়। তার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে, কতটুকু কী বলা যাবে ইত্যাদি বোঝার জন্য এগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য।
জাপানে কার্ড বিনিময়ের এ সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হওয়া এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, কীভাবে কোন ছুতোয় বা কোন কথার ফাঁকে নিজের কার্ডটি ধরিয়ে দিতে হবে সেটা শেখার জন্য জাপানে অনেক বই পাওয়া যায়, কিছু কোর্সও আছে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে বিজনেস কার্ড বিনিময়ের এ সংস্কৃতি লাইফ সাপোর্টে আছে। কারণ বেশিরভাগ প্রফেশনাল মিটিং এখন অনলাইনে হচ্ছে। মানুষ কাজ করছে ঘরে বসেই। ব্যবসায়িক আলাপের প্রয়োজনে চা পান, মধ্যাহ্নভোজন ইত্যাদি প্রায় বন্ধই আছে বলা যায়। অনলাইন মিটিংয়ে নিজের বিজনেস কার্ড ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগও থাকছে না। মাল্টিন্যাশনাল প্রিন্টিং কোম্পানি ভিস্তাপ্রিন্ট জানিয়েছে, গত বছর মার্চের শেষ ও এপ্রিলের শুরুতে তাদের বিজনেস কার্ডের অর্ডার শতকরা ৭০ ভাগ কমে গেছে।
এ প্রেক্ষাপটে কিছু কোম্পানি কাগজের বিজনেস কার্ডের বিকল্প উদ্ভাবনের চেষ্টা চালাচ্ছে। জাপানি কোম্পানি নাগায়া উদ্ভাবন করেছে ‘মেইশি’ নামে একরকম মাস্ক। ওই মাস্কের ওপরে ব্যবহারকারীর বিজনেস কার্ডের তথ্যগুলো মুদ্রিত থাকবে। এ মাস্ক বানানোর অর্ডার নেওয়া শুরু করার পর নাগায়ার ওয়েবসাইটের লেনদেন এক লাফে ৬৫ হাজার শতাংশ বেড়ে গেছে। সানসান নামের আরেকটি জাপানি কোম্পানি উদ্ভাবন করেছে ভার্চুয়াল বিজনেস কার্ড। বিজনেস কার্ড হিসেবে তারা দিচ্ছে একটি কিউআর কোড যা প্রফেশনাল মিটিংয়ের সময় ভিডিও-কনফারেন্সিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে ভার্চুয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে প্রদর্শন করা যায়। ফোন ক্যামেরায় কোডটি স্ক্যান করলে তার বিজনেস কার্ড দেখা যায়। জুনে চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩৩৩টি কোম্পানি সানসানের ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার শুরু করেছে। তবে এসব নতুন উদ্ভাবনের ফলে কাগজের বিজনেস কার্ডের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে এমন নয়।
