চিকিৎসকের বাসায় শিশু গৃহকর্মীর গায়ে খুন্তির ছ্যাঁকা!

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:২২ এএম

বরিশালের এক শিশু গৃহকর্মীকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজের জন্য নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার এক চিকিৎসকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এমনকি নির্যাতনের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটির চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না করে তাকে বরিশালের গ্রামের বাড়ির কাছে একটি দোকানের সামনে লোক মারফত ফেলে রেখে যায় ওই চিকিৎসক দম্পতি। পরে গত বুধবার রাতে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুকে উজিরপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উজিরপুরের ওটরা ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. সিএইচ রবিনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত ওই শিশু। তাকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রীর বিচার ও শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনরা। আর এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার নিপা বাড়ৈ (১১) উজিরপুরের জামবাড়ি এলাকার মানসিক প্রতিবন্ধী ননী বাড়ৈর মেয়ে। নিপার মা দুই বছর আগে অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে নিপা মেজো। সে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিকভাবেও প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশু নিপাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৬ নম্বর বিছানায় শরীরের নানা ক্ষত নিয়ে কাতরাচ্ছিল। তার মাথায় বড় ধরনের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। চোখেমুখে দেখা যায় ভয়ের ছাপ।

নিপার অভিযোগ, গৃহকর্ত্রী রাখি দাস নানা অজুহাতে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত। কখনো গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, কখনো ছুরির খোঁচা, আবার কখনো দেয়ালে ঠোকা হতো তার মাথা। এমনকি কখনো কখনো তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করত। অব্যাহত নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে লোক মারফত গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে উজিরপুরের জামবাড়িতে গ্রামের বাড়ির কাছে একটি দোকানের সামনে তাকে ফেলে যায়।

নির্যাতনের শিকার নিপার চাচি মুক্তি বাড়ৈ জানান, ছয় মাস আগে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ ডা. সিএইচ রবিনের শ্যামলীর বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করে নিপা। কখনো শিশুটির খোঁজখবর জানতে চাইলে সে ভালো আছে বলে জানানো হতো তাদের। গত বুধবার শিশুকে বাড়ির কাছে ফেলে যাওয়ার পর তার শরীরে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ দেখেন তারা। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তার স্বজনরা।

উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ডা. শামসুদ্দোহা তৌহিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিকিৎসায় শিশুর (নিপা) শরীরের ক্ষত সেরে যাবে। কিন্তু তার ওপর যে মানসিক চাপ গেছে তাতে সে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। মানসিকভাবে তার সুস্থ হতে সময় লাগবে।’

উজিরপুর থানার ওসি মো. জিয়াউল আহসান বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার ওই শিশুকে ফেলে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত