পশ্চিমা ফাঁকা বুলিতে বিপদে মিয়ানমার

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:১০ পিএম

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী দেশটির ইয়াঙ্গুন শহরের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের ডাকে সারা দেশে একযোগে ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। উল্টো সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে বিক্ষোভকারীদের অবস্থা খারাপ। মিয়ানমারের অবস্থা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো চুপ থাকলেও পশ্চিমা দেশগুলো বেশ সরব অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা এই সরব অবস্থানের অনেকটাই আসলে ফাঁকা, যা মিয়ানমারের সাধারণ জনগণকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের দুই জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আর যুক্তরাজ্যও যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক বিবৃতিতে জানান, মিয়ানমারে ক্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতিসংঘ এবং জি-৭ মিয়ানমারের অবস্থাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে দায়সারা বিবৃতি দিয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে পশ্চিমা সম্পর্কের ইতিহাস বলে, দেশটির সামরিক বাহিনী ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলো উচ্চবাচ্য করলেও আদতে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এর কারণ হিসেবে কিছু বিশ্লেষক মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহুমাত্রিকতা ও দেশটির ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিভাজনকে দায়ী করেন।

মিয়ানমারে আগের মতো আর পশ্চিমা শক্তি কাজ করে না। ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালায় তখন পশ্চিমা পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি বোঝা যায়। বরঞ্চ পশ্চিমা আস্ফালনের কারণে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা আরও সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে পারবে তখনই যখন অন্য শক্তিগুলো তাদের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবে।

পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে ধরতে চায় মানবাধিকার ইস্যুতে। কিন্তু দেশটির জটিল রাজনৈতিক অবস্থায় মানবাধিকার ইস্যু অন্য সব ইস্যুর তুলনায় পেছনের সারির। আর পশ্চিমারা সেনাবাহিনীকে যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রতিবিপ্লবী একটি অংশের উত্থান সম্ভাবনা দেখছে গার্ডিয়ান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত