পণ্য পরিবহনে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া, পাবনার নগরবাড়ী, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পণ্যবাহী শত শত কোস্টার জাহাজ নিয়মিত এ নৌপথে চলাচল করে থাকে। কিন্তু নদীর পানি কমে ওই নৌপথের বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। চ্যানেলে পানি কমে যাওয়ায় সেখানে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম ও মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী বন্দরগামী সার, গম, কয়লা, ক্লিঙ্কারসহ বিভিন্ন পণ্যবোঝাই ৩০টির অধিক কোস্টার জাহাজ কয়েক দিন ধরে আটকা পড়ে আছে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার পদ্মায়।
সরেজমিন দেখা যায়, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট থেকে এক কিলোমিটার ভাটিতে পদ্মা নদীতে নোঙর করে আছে এমভি প্রিন্স অব আরহাম, এমভি তাজবীদ দীবা, এমভি রাসেল-৭, এমভি শাহনেওয়াজ, এমভি মিজাব-২, এমভি সুমাইয়া ছোঁয়া, এমভি হাসিবুর, এমভি সাবিত-৫, এমভি দেশ ভ্রমণ, এমভি ঝর্ণাসহ ৩০টির বেশি কোস্টার জাহাজ। শতাধিক শ্রমিক ওই জাহাজগুলো থেকে মালামাল নামিয়ে বোলগেটে বোঝাই করছে।
এ সময় আটকে পড়া জাহাজচালকদের (মাস্টার) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি কমে দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌপথে অসংখ্য ডুবোচর ও নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে নৌ চ্যানেলের মোল্লার চর, ব্যাটারির চর, কানাইদিয়া, লতিফপুর, নাকালিয়া ও পেঁচাখোলা এলাকায় নাব্য সংকট সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা না থাকায় সেখানে ১০ থেকে ১৩ ড্রাফটের মালবোঝাই কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।
ইমপোর্টার প্রতিনিধি সুমন দাস বলেন, সাত দিনের মধ্যে জাহাজ থেকে মালগুলো আনলোড করতে না পারলে বয়ে আনা মালামালের মালিকপক্ষকে প্রতিদিন জাহাজপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। ২২ দিন পার হলে জাহাজ ভাড়া দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চল মানিকগঞ্জ ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ খান বলেন, বর্তমানে পদ্মায় পানির গভীরতা ৭-৮ ফুট। এসব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজন ১২ থেকে ১৭ ফুট।
