পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূলের মমতা ব্যানার্জি। মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হতে চলেছেন নন্দীগ্রামের যুবরাজ, কাঁথির শান্তিকুঞ্জের শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি জানায়, প্রাথমিকভাবে বঙ্গ বিজেপির তরফে ১৩০টি আসনের প্রার্থী তালিকার খসড়া ইতিমধ্যে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে। একটি আসনের জন্য ২ বা ৩ জনের নাম পাঠানো হয়েছে। এর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঠিক করে দেবেন। এই তালিকায় রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নামও। তার নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়া প্রায় পাকা। আগামী ৪ মার্চ দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির প্রথম দফার যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবে তাতে শুভেন্দুর নাম থাকছে।
যদিও শুভেন্দু অধিকারী যে বিজেপির প্রার্থী হতে চান নন্দীগ্রামে তা তিনি প্রকাশ্যে কখনই বলেননি। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির নাম নন্দীগ্রামে ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতারা বারবারই তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, ‘ক্ষমতা থাকলে শুভেন্দু যেন নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন।’ সেই চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে নিয়ে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলের ওপর ছেড়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে বিভিন্ন জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘নন্দীগ্রামে যে-ই বিজেপির প্রার্থী হন না কেন, তিনি দায়িত্ব নিয়ে মমতাকে ৫০ হাজার ভোটে হারাবেন।’
কিন্তু সম্প্রতি শুভেন্দু উত্তর কলকাতায় একটি জনসভায় ফের তৃণমূল নেত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেছেন, ‘আমি ওকে হারাব।’ এরপর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ ভোট। জিতেছিলেন ৮১ হাজার ২৩০ ভোটে। তৃণমূল ভোট পেয়েছিল ৬৭.০২ শতাংশ। আর বিজেপির বিজয় কুমার দাস পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার ৭১৩ (৫.৪০ শতাংশ) ভোট। ২০১৯-এর তমলুক লোকসভার অন্তর্গত নন্দীগ্রাম বিধানসভা তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দুর ভাই দিবেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৯ (৬৩.১৪ শতাংশ) ভোট। অপরদিকে বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্কর ভোট অনেকটাই বাড়িয়ে পান ৬২ হাজার ২৬৮ (৩০.৯ শতাংশ)।
