সাত বছরের শিশুকে মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতন

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২১, ০২:৩১ এএম

গাজীপুরে সাত বছরের এক শিশুকে মাদ্রাসার শিক্ষক পিটিয়ে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । গতকাল বুধবার সকালে শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখ- এলাকার মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম ইয়াছিন। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন  রয়েছে।

শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবার দিনভর ব্যস্ততার কারণে এক বছর আগে ইয়াছিনকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি করেন। সম্প্রতি পড়ালেখার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সে শিক্ষককে পড়া দিতে পারছিল না। এর জেরে কয়েক দফা মারধর করা হয় তাকে। বুধবার সকালে শিক্ষকের মারধরের কারণে সে কান্নাকাটি করে পালিয়ে আসে।

ইয়াছিনের মা শারমিন আক্তার বলেন, ‘এভাবে কোনো মানুষ কোনো পশুকেও মারতে পারে না। অথচ আমার শিশুসন্তানকে মারধর করেছে। সন্তানকে লেখাপড়া করানোর জন্য এখানে দিয়েছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না। হুজুরের বিচার তো আর আমরা করতে পারব না তাই এর বিচারের ভারটা আল্লাহর কাছেই দিয়েছি।’

ইয়াছিনের বাবা মফিজুল হক বলেন, ‘হুজুর ক্ষমা চেয়েছে, এর সঙ্গে স্থানীয়রাও আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে, তাই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সে (ইয়াছিন) পড়া দিচ্ছিল না, তাই তাকে মারধর করেছি। কিন্তু বিষয়টা এত বড় হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা মোস্তারী বলেন, ‘শিশুটিকে নিয়ে তার স্বজনরা দুপুরে আমার কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছি।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত