ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উৎকোচ ছাড়া মিলছে না দামি ওষুধÑ এমন অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। একটি ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে চার দিন পর সরকারি ওষুধ পাওয়ার ঘটনা সামনে এলে বেরিয়ে এসেছে আরও অভিযোগ।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন জাহিদুর রহমান নামে এক রোগীর বড় ভাই মিলন অভিযোগ করে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জ¦র নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন তার ছোট ভাই। তার চিকিৎসাপত্রে হাসপাতালে সরবরাহ থাকা ‘সেফটি অ্যাক্সজন ওয়ান গ্রাম’ নামে একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন লেখেন জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক। এরপর আন্তঃবিভাগে যাওয়ার পর ওই অ্যান্টিবায়োটিক বদল করে ‘ইনাসেফ টু গ্রাম’ নামে অন্য একটি অ্যান্টিবায়োটিকের নাম লেখেন এবং ১০টি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনার জন্য হাতে কাগজ ধরিয়ে দেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু বক্কর সিদ্দিক।
ওই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় তা কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন মিলন। এ সময় মিলনকে ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ইনজেকশনগুলোর দাম ৪ হাজার টাকা। তুমি কিছু কম দাও, আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
কিন্তু টাকা না থাকায় ইনজেকশনগুলো হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করার জন্য ওই ডাক্তারের কাছে আকুতি-মিনতি করেন মিলন। তবে এতে কোনো কাজ হয়নি। উল্টো ধমক দিয়ে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন মিলন।
এরপর সেই ইনজেকশন বাদ দিয়ে ‘ওরিসেফ টু গ্রাম’ নামে অন্য আরেকটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনের নাম লেখেন ওই চিকিৎসক। টাকা না থাকায় ইনজেকশনগুলো কিনতে পারেনি ওই রোগীর স্বজন।
অবশেষে গত বুধবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলামের সহায়তায় ওষুধের ব্যবস্থা হয়।
সূত্র জানায়, হাসপাতালেই পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে ওই ইনজেকশনের। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আরএমও তাদের হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। শুধু মিলন বা জাহিদুরই নন, এরকম অসংখ্য ভর্তি রোগীকে ওষুধের জন্য প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শহরের মুন্সিপাড়ার মোশারফ হোসেন জানান, হাসপাতালে টাকা ছাড়া কোনো চিকিৎসা সেবা বা ওষুধ পাওয়া যায় না। যেন দেখার কেউ নেই।
এ বিষয়ে আরএমও ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, টাকার বিনিময়ে ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। টাকার বিনিময়ে চিকিৎসার সনদ দেওয়ার অভিযোগও মিথ্যা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। কেউ এমন করে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম বলেন, এ রকম একটি ঘটনা শোনার পর আমি হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষকে বলে ওষুধ প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। এমন ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়।
