দেড় মাসে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ০২:০৩ এএম

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় পর গত দুই দিন টানা ৬ শতাধিক করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় ৬০২ জন করোনা রোগী শনাক্তের পর টানা ৩৬ দিন দৈনিক রোগী শনাক্ত ছয়শর নিচে ছিল। গত বুধবার ৩৭তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় ৬১৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। তার পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার তারচেয়েও বেশি ৬১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৪৩ দিন বা প্রায় দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি এরচেয়ে বেশি ৬৫৬ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গতকাল রোগী শনাক্তের হারও আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজারের কাছাকাছি নমুনা পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় চারজনের মধ্যে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। আগের দিন শনাক্ত হার ছিল ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এদিকে দেশে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা গতকাল ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৪১ রোগী সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৬৮ জন। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে সর্বমোট ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৯ জনের। তাদের মধ্যে শতকরা ৯১ দশমিক ২৩ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে গেছেন। এ ছাড়া এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে মোট ৮ হাজার ৪৩৫ জন। বাকি ৩৯ হাজার ৬৪৬ জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাসায় চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছে ৭ জন। মৃতদের সবাই ষাটোর্ধ্ব এবং সর্বোচ্চ চারজন ছিল ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩৬১তম দিন। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১৯ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, নতুন দুটিসহ ৭২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৬ হাজার ১৪৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৯৮৫ জনের নমুনা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ৪১ লাখ ৫ হাজার ৩২১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ এবং সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ২৩ শতাংশ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ ও নারী দুজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৭৭ পুরুষ ও ২ হাজার ৫৮ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬০ ভাগ ও নারী ২৪ দশমিক ৪০ ভাগ।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা চারজন ঢাকা বিভাগের এবং বাকি তিনজন চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭২২ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৫১, খুলনায় ৫৬০, রাজশাহীতে ৪৭৯, রংপুরে ৩৬৩, সিলেটে ৩১১, বরিশালে ২৫৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ১৯৬ রোগী মারা গেছে। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৮ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ২৯২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ৯ হাজার ৬৭১ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩১ হাজার ৭৪২ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ২৮৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৪৯৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৬টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৮২টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত