মাছের চাষ করার জন্য মাটি কেটে গভীর খাল খননের কারণে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলার মরিয়মনগর চৌমুহনী থেকে কাটাখালী পর্যন্ত অর্ধ কিলোমিটারজুড়ে প্রায় দুই মাস ধরে সড়ক ও জনপথের জমি কেটে তৈরি করা হচ্ছে এই প্রকল্প।
স্থানীয়রা জানায়, জনৈক আজাদ উদ্দিনের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সিন্ডিকেট করে এস্কেভেটর যন্ত্রের সাহায্যে সড়কের মাটি প্রকাশ্যে কেটে বানাচ্ছেন প্রকল্পটি। অবৈধভাবে সড়কের মাটি কাটা হলেও এতে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোনো বাধা নেই বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়ক লাগোয়া ৩০-৪০ ফুটেরও বেশি গভীর করে মাটি কেটে নির্মিত হয়েছে মৎস্য প্রকল্পের দীর্ঘ খাল। এতে সড়কে ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সুলতানুল আলম, সুকুমার মুৎসুদ্দি জানান, সড়কের জায়গার বাইরেও কৃষকের আবাদী জমি কেটে খালের বিস্তৃতি বাড়ানো হচ্ছে। রাতে ও দিনে এস্কেভেটর দিয়ে অবাধে চলছে মাটি কাটার কাজ। রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ের দখলদারদের দাপটে কেউ আপত্তি করার সাহস পায় না। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় বর্ষাকালে মৎস্য প্রকল্পের গভীর খালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কটি ধসে পড়তে পারে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের যোগাযোগব্যবস্থা।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাঙ্গুনিয়া শাখার কার্যপরিদর্শক রাসেল দেওয়ান জানান, সড়কে মাটি কাটার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি।
এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে সড়কের মাটি কাটায় এস্কেভেটরটি জব্দ এবং এর চালককে এক মাসের কারাদ- দেন। পরে ৫০ হাজার টাকা অর্থদ-ে চালক মুক্তি পেলেও জব্দ করা এস্কেভেটরটি সড়কের জায়গাতেই পড়ে আছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম মিল্কি চালককে অর্থদ- দিয়ে জামিন দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও জব্দ করা এস্কেভেটরের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়ক ধসে পড়ে মহাসড়কে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, দুই মাস ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দখল করে অনুমোদন ছাড়া মৎস্য প্রকল্প করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়।
এদিকে সড়কের মাটি কাটার বিরুদ্ধে আদালতের অভিযানের তোয়াক্কা না করে এখনো চলছে মৎস্য প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। মাটি কাটার ব্যাপারে আজাদ উদ্দিন বলেন, সওজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই মাটি কাটছি।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কাটাখালী এলাকায় ২৫টি আকাশমনি ও বেজিয়াম বৃক্ষ কর্তন করে নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। সেখানে মৎস্য প্রকল্পের নামে বেআইনিভাবে খাল কেটে সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
