গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবাধে চলছে মাদক কারবার। একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের শতাধিক স্পটে বিক্রি হচ্ছে সর্বনাশা মাদক। এখানে সব ধরনের মাদক চললেও একচেটিয়া কাটতি ইয়াবা ও চোলাই মদের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং উঠতি বয়সের তরুণ এসব মাদকের বড় ক্রেতা।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মদদ থাকায় মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও আশানুরূপ নয়। অনেক সময় খুচরা মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও বড়রা এবং নেপথ্যের মদদদাতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মাদক বিক্রি হয় খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজধানীর উত্তরা লাগোয়া নাগরী ইউনিয়নে। এখানে পানজোড়া, মঠবাড়ী, সেনপাড়া, নাগরীবাজার, উলুখোলা, বাসাবাসি, বাগদী, নলছাটা, কড়ান, বড়কাউসহ কমপক্ষে ১২টি স্পটে ব্যবসা করেন অন্তত ৬৬ মাদক কারবারি। এখানে রয়েছে ছোট-বড় শতাধিক চোলাই মদের কারখানা। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার মদ ঢাকায় যায়। ভাদার্তী, কালীগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, টেকপাড়া, দেনারবাড়ী, কাপাসিয়া মোড়, আরএফএল গেট, দড়িসোম, উত্তরগাঁও, বড়নগর, চান্দাইয়া, উত্তরগাঁও, ভাঘাড়পাড়া, গোলাবাড়ী, ঘোনপাড়া, বালিগাঁও, ময়েজ উদ্দিন সেতুর পাশের খেয়াঘাট এলাকাগুলো মাদকে থাকে সবচেয়ে রমরমা। এসব এলাকায় মাদক কারবারের মূল নিয়ন্ত্রণ বালিগাঁওয়ের এলাকার ৩১ মাদক কারবারির হাতে। তাদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পদে আছেন।
স্থানীয়রা জানায়, দুই-তিন বছর আগেও কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক যুবলীগ নেতা মাঈনুল ইসলাম মাইনুর পরিবারের হাতে। মাঈনুলের ছোট দুই ভাই শহিদুল ইসলাম ভুট্টু ও সুমন একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেছেন। বক্তারপুর ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে মাদক কারবারির সংখ্যা অন্তত ৫০। তার মধ্যে মাদকের হটস্পট ফুলদিতেই আছেন ১৩ জন।
কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের কাছের তুমুলিয়া ইউনিয়নে রয়েছে অন্তত ২০টির মতো মাদক স্পট। এগুলোর মধ্যে রাঙ্গামাটিয়া, কামারপাড়া, দড়িপাড়া, দারকাভাঙা, চড়াখোলা, বাজৈন্নাপাড়া, ফৈড়াখালী, বোয়ালী, মানিকপুর, ভাইয়াসূতির সাধুবাজার অন্যতম।
বক্তারপুর ইউনিয়নের জয়রামবের, ফুলদী, সাতানিপাড়া, ছৈল্লার মোড়, নাওয়ানের মোড়, ব্রাহ্মণগাঁও বাজার, খৈকড়া, দেউলিয়া ইত্যাদি স্পটে অবাধে চলে মাদক কারবার। রাতে বক্তারপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি ইয়াবাসেবীদের দখলে থাকে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মো. মিজানুল হক বলেন, অনেককে মাদক ব্যবসা থেকে ফিরিয়ে এনেছি। আগে যেখানে মাসে ১৫-২০টি মামলা হতো, এখন তা কমে ৫-৭টিতে দাঁড়িয়েছে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
