স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে সুন্দরবনের ১০ দুর্বৃত্তের আত্মসমর্পণ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২১, ০১:২৫ পিএম

সুন্দরবনে হরিণ শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ ধরাসহ নানা বন অপরাধের সাথে জড়িত মোংলার বন সংলগ্ন লোকালয়ের ১০ দুর্বৃত্ত তার নিজ কর্মের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক পেশায় জীবন-যাপন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা স্বেচ্ছায় মোংলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনির পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

এ সময় তারা তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে স্বাক্ষর করেন।

অঙ্গীকারে তারা বলেন, তারা বনের হরিণ শিকার, নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরার মত জঘন্য ও ঘৃণিত কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা তাদের অপকর্মের ভুল বুঝতে পেরে এবং এ পেশার প্রতি ঘৃণা জন্মানোতেই তারা স্বেচ্ছায় এ পেশা থেকে সরে আসছেন।

ভবিষ্যতে তারা এ অপকর্ম থেকে বিরত থাকবেন এবং বিকল্প পেশায় জীবিকা নির্বাহ করবেন।

এ ছাড়া তারা উপস্থিত বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামনে কোরআন ধরেও শপথ করেন।

এ সময়  চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, স্টেশন অফিসার মো. ওবায়দুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর মো. ওলিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আত্মসমর্পণ, শপথ ও অঙ্গীকারবদ্ধ বন অপরাধীরা হলেন- চিলা ইউনিয়নের বৈদ্যমারী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে ফরিদ হাওলাদার, শহিদুল জোমাদ্দারের ছেলে সোহাগ জোমাদ্দার, ইউসুফ ব্যাপারীর ছেলে ফরিদ ব্যাপারী, জোহর জোমাদ্দারের ছেলে মনির জোমাদ্দার, মজিদ ফকিরের ছেলে ডিয়ার ফকির, আলকাজ শেখের ছেলে শুকুর শেখ, কাশেম ফকিরের ছেলে এমাদুল ফকির ও মাহবুব ফকির, আলমগীর শেখের ছেলে রাসেল শেখ এবং কাশেম ফকিরের ছেলে কামরুল ফকির।

চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক বন অপরাধের (হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগ) মামলা রয়েছে। বেশির ভাগের নামে রয়েছে হরিণ শিকারের মামলা। কারও কারও রয়েছে বিষ দিয়ে মাছ ধরার মামলাও।

স্বাভাবিক জীবনে ফিরায় তাদের বিকল্প পেশায় সহায়তা করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের ‘সুরক্ষা’ নামক একটি প্রজেক্ট ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে ওই প্রজেক্টের টাকা ছাড় হবে। ওই প্রজেক্টের আওতায় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত