অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন, সাবেক সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম চলবে। মামলার কার্যক্রম স্থগিত ও আরিফুলের সাজা চলমান চেয়ে নাজিম উদ্দিনের করা আবেদন গতকাল রবিবার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন গঠিত আপিল বেঞ্চ। ফলে সুলতানা পারভীনসহ অভিযোগে নাম আসা অন্যদের বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালতে আরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন ও ইশরাত হাসান। নাজিম উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহানারা বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আরিফুলের সাজার কার্যক্রম স্থগিত করেছিল হাইকোর্ট। এই আদেশ এবং তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া সাজা চলমান চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন নাজিম উদ্দিন। সর্বোচ্চ আদালত তার এ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। এখন আরিফুলকে নির্যাতনের মামলায় যাদের নাম এসেছে, তাদের সবার ক্ষেত্রে আদেশটি কার্যকর হবে। এ মামলার কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা নেই।’
গত বছরের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসনের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মদ ও গাঁজা পাওয়ার দাবি করে আরিফুলকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়। এই সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৫ মার্চ উচ্চ আদালতে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার সব নথি তলব করে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৩ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে আরিফুলকে দেওয়া সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত এবং সাজার প্রশ্নে রুল জারি করে। একই সঙ্গে সুলতানা পারভীন, নাজিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে আরিফুলের করা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয় আদালত। পরে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নাজিম উদ্দিন।
