নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ পরিবারের পাঁচজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার রাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বড়ালুপাড়াগাঁও ও চনপাড়া বড়বাড়ি এলাকায় এ হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দাবিতে বড়ালুপাড়াগাঁও এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী।
ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল আলম জেমিন জানান, তিনি চনপাড়া বড়বাড়ি গ্রামের মৃত নুরুল আলমের ছেলে। এ ছাড়া কায়েত পাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে কায়েত পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহেদ আলী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ আলী ও বহিরাগত কামরুজ্জামান হীরার নেতৃত্বে শমসের ডাকাত, স্বপন, শাওন, নাজমা বেগম, লিটন, মিল্লাত, ফারুক ভুইয়া, রাসেলসহ ২০/২৫ জনের একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ সশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
তার আরো অভিযোগ, হামলাকারীরা আশরাফুল আলম জেমিনের বাড়ির গেইটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে জেমিনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় মা রাশিদা বেগম ও বড় ভাবি রিয়া আক্তার, ভাতিজি আফিফা, বড় ভাই আহাম্মদ হাসান সৈকত এগিয়ে এলে তাদের মারধর করে সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ আট লাখ টাকা, ২৪ ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি এলইডি টেলিভিশন, একটি এসি, একটি মটরসাইকেলসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।
অপর ঘটনায় মহিউদ্দিন মিয়া জানান, তিনি কায়েত পাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি। তিনিসহ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি জামান বেপারীসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জাহেদ আলীর অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছেন। আর এর জের ধরে রাত ১১টার দিকে পাড়াগাঁও বাজারে অবস্থিত তাদের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রতিপক্ষ জাহেদ আলী ও কামরুজ্জামান হীরার নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। এ ছাড়া নগদ চার লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ মালপত্র লুটে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
হামলার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দাবিতে বড়ালুপাড়াগাঁও এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্যে রাখেন, জেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল বাশার টুকু, কার্যকরী সদস্য করিম পাঠান, কায়েত পাড়া ইউনিয়ন সহ-সভাপতি হাজি ইয়ার হোসেন, কায়েত পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল আউয়াল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিউদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম চৌধুরী অপুসহ আরো অনেকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, পৃথক ঘটনায় দুটি অভিযোগ পেয়েছি। একটি মামলা হয়েছে, অপরটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
