রাঙ্গুনিয়ায় ফেরি পারাপারে মানুষের ভোগান্তি

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ০১:১৩ এএম

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীতে ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতে যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতায় তিন পার্বত্য জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির পণ্যবাহী যান ও যাত্রী।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলা এবং বান্দরবান জেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির যোগাযোগের জন্য চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীর ফেরি পারাপার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের যানবাহন যোগাযোগ রক্ষার জন্য চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীতে এ ফেরি পারাপার ব্যবস্থা। নদীর ওপারে রাইখালী ফেরি সড়ক। দুই পাড়ের সংযোগ সেতুর অভাবে এখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ফেরিতে করে যানবাহন পারাপার করা হয়। দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের পারাপারে এই ফেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রক্ষা করে।

কিন্তু এখানে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরির স্বাভাবিক পারাপার হচ্ছে না। গ্যাংওয়ের সঙ্গে পন্টুনের যথাযথ সংযোগ নেই। নদীতে জোয়ার-ভাটায় পন্টুন এবং গ্যাংওয়ের সংযোগের বিচ্যুতিতে যানবাহন এবং যাত্রী ওঠানামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নদীতে জোয়ারের সময় গ্যাংওয়ে ব্রিজ পানিতে ডুবে যায়। আবার ভাটির সময় পন্টুন তলিয়ে গ্যাংওয়ের ধারালো পাটাতন বের হয়ে আসে। এতে যানবাহন এবং যাত্রীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এছাড়া নদীর নাব্য সংকটের কারণে যানবাহন বোঝাই ফেরি প্রায়ই নদীতে আটকা পড়ে। পারাপারে লাগে প্রচুর সময়। প্রতিদিন নদীর উভয় পাড়ে শত শত যানবাহন এই ফেরি ঘাটে আসে। কিন্তু সীমিত ধারণ ক্ষমতার একটিমাত্র ছোট ফেরি যথাসময়ে পারাপার সেবা দিতে পারে না। নদীর উভয় পাড়ে দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এতে বিভিন্নমুখী পণ্যবাহী যান ও যাত্রীদের গন্তব্য বিলম্বে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি যোগাযোগ।

দেখা গেছে, পন্টুনে ভিড়তেই ফেরিতে উঠতে যানবাহনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফেরিতে আরোহী ট্রাকের চালক নুরুল আমিন ও অন্যান্য কয়েকজন জানান, ফেরিঘাটের ভয়াবহ অবস্থা। এর ওপরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ফেরিতে যানবাহনের পারাপার বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গত মাসে সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক পারাপারের সময় ফেরি থেকে নদীতে পড়ে ডুবে গেছে।

 ফেরির চালক অংসী মার্মা ও সাজাই মার্মা বলেন, ইজারাদারের মাধ্যমে ফেরি পরিচালনা হয়। তাদের ইঙ্গিত নিয়েই ফেরির ইঞ্জিন চালু করি। নদীতে জেগে ওঠা চর এবং ঘন ঘন ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার কারণে পারাপার বিঘ্নিত হয়।

ইজারাদার মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার বলেন, পারাপারে টোল আদায় করি মাত্র। ফেরি পন্টুনসহ অন্যান্য সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের।

রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী মোহাম্মদ কামাল বলেন, শীতের মৌসুমে নদীতে পানি কমে যায়। বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠে। ফেরি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ছোট আকারের একটি ফেরি দিয়ে সীমিত সংখ্যক যানবাহন পারাপারে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান বলেন, আগামী ডিসেম্বরে চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী ফেরিঘাটের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত