চট্টগ্রামে মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতন

দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কী জানতে চায় হাইকোর্ট

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০২:৫৩ এএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আট বছর বয়সী শিশুশিক্ষার্থীকে নির্দয়ভাবে পেটানোর ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগসহ কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও হাটহাজারী থানার ওসিকে (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রবিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনাটি নজরে আনা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মৌখিক আদেশ দেয়। নির্যাতিত ওই শিশুকে যথাযথ  চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তার পরিবারকে কোনো পক্ষ চাপ দিচ্ছে কি না এবং শিশুর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে হাইকোর্টের আদেশে।

গত মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকেলে হাটহাজারী পৌর এলাকার আল মারকাযুল কোরআন ইসলামিক অ্যাকাডেমির আবাসিক শিক্ষার্থীকে (শিশুসন্তান) তার মা দেখতে যান। মা চলে যাওয়ার সময় শিশুটি মায়ের পেছন ছুটে যায়। এটি দেখে ক্ষিপ্ত শিক্ষক ইয়াহিয়া শিশুটির ঘাড় ধরে মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে নির্মমভাবে পেটায়। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে অভিযান চালিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন শিশুটিকে উদ্ধার এবং শিক্ষক ইয়াহিয়াকে ধরে আনলেও শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে তখন কোনো অভিযোগ না করায় ইয়াহিয়াকে বুধবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই দিন বিকেলে শিশুর পরিবার মামলা করলে ফের গ্রেপ্তার করা হয় ইয়াহিয়াকে।

এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতের নজরে এনে নির্দেশনা চান। এরই ধারাবাহিকতায় এসব আদেশ আসে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া গণমাধ্যমে এসেছে ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মা নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এমন ঘটনায় তাদের ওপর কোনো প্রভাব বা চাপ ছিল কি না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের মৌখিক আদেশের এই বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। হাটহাজারী থানার ওসি মুঠোফোনে আমাকে জানিয়েছেন যে, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত