বগুড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় দুপক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শহরের সাতমাথা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান, নির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান, ছাত্রলীগ কর্মী দুলাল, সানজিদ ও রাজন।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করতে বগুড়া শহর থেকে রওনা দেন। ধুনট যাওয়ার পথে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবিরের মোটরসাইকেলের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য জাহিদ হাসানের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে দুই নেতার মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। ধুনট থেকে সন্ধ্যায় বগুড়া ফেরার পর সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফসহ তার সমর্থকরা জাহিদের পক্ষ নিয়ে তাকবির ও তার সমর্থকদের সঙ্গে আবারও বিত-ায় জড়ান। এরই একপর্যায়ে হামলা ও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় তাকবির ছুরিকাহত হন এবং দুলালের মাথা ফাটে এবং অন্যরা মারধরে আহত হন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাকবির ও তার সমর্থকরা অভিযোগ করেন, তারা সন্ধ্যার পর থেকে সাতমাথায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত ৯টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের নেতা আবদুর রউফের নেতৃত্বে সাতমাথায় তাকবিরসহ অন্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে আবদুর রউফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জেরে তাকবিরের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা জাহিদসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধাওয়া করে। এতে হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না।
ঘটনার পরপরই শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম আসাদুর রহমান দুলু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায়।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়েই তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। দুপক্ষের মধ্যে মারামারির কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। তবে উভয়পক্ষের কাছে যতটুকু জেনেছেন তা খুবই তুচ্ছ বিষয়। কে বা কারা আগ বাড়িয়ে হামলা করল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। এতে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, কথা-কাটাকাটি থেকে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। আহত কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
