খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের রাষ্ট্রীয় অতিথি। তার আগমনে সাতক্ষীরা জেলাবাসী ধন্য হবে। সকলে এক সঙ্গে কাজ করে সফল অনুষ্ঠান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তিনি এই এলাকা সফর করার পর শ্যামনগর শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতেও ফোকাস হবে। পুরো ভারতবর্ষ শ্যামনগর সম্পর্কে জানবে। মেহমানকে কীভাবে আপ্যায়ন করতে এই এলাকার মানুষ সেটা জানে। আমাদের আতিথেয়তা সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে। এর মাধ্যমে এলাকার পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে।
তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সাহায্য করা হবে। সে উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনটি হেলিপ্যাড নির্মাণ, মন্দির সংস্কারসহ সকল কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
আগামী ২৭ মার্চ সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাতক্ষীরা শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন ও পূজা অর্চনা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
বিকেলে উপজেলার ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী কালি মন্দির প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন-এনডিসি। খুলনা বিভাগীর রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, নিলডুমুর বিজিবি রিভারাইন কমান্ডিং অফিসার লে. কমান্ডার মিল্টন কবীর, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুসাইন সাফায়েত, শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর গিফারী, শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা, কৈখালী কোস্টগার্ড কর্মকর্তা আলম, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার সন্তোষ কুমার, জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, মন্দিরের পুরোহিত দিলীপ মুখার্জিসহ বিভাগীয় ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ডা. খ মহিদ উদ্দীন বলেন, নরেন্দ মোদি আমাদের এখানে আসবেন এটি আমাদের জন্য সুখের বার্তা। মেহমানের মেহমানদারি করার ঐতিহ্য আমাদের আছে। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সেটা আমরা করবো। প্রত্যেক সংস্থাকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে সুন্দর করে আতিথেয়তা করে তাকে নিরাপদে বিদায় দিতে পারি। প্রচেষ্টা থাকলে সেটা অসম্ভব কিছু না।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর যশোরশ্বরী মন্দির পরিদর্শন জেলাবাসীর জন্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব বর্ষের বড় উপহার।
এই সময় জেলা প্রশাসক হিসেবে থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। শ্যামনগরবাসীর পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমরা স্বাগত জানাব।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় অতিথির সামনে জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে কর্মসূচি গ্রহণ করছি। গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে এই কাজটি করা হবে। হেলিপ্যাড থেকে মন্দির প্রাঙ্গণ পর্যন্ত মুজিব বর্ষ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সেটিও ফুটিয়ে তোলা হবে। সেটা করতে সকল বিভাগের কর্মকর্তার রাত দিন একাকার হয়ে কাজ করছেন। সাতক্ষীরার এই এলাকা বিভিন্ন মানুষের আগমনে উপকৃত হবে। এটার যে সুবিধা এলাকার মানুষ ভবিষ্যতেও ভোগ করতে পারবেন।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠান সূচিতে আধা ঘণ্টা বলা হলেও চার ঘণ্টার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। অতিথি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স থাকবে।
