নোয়াখালী সদর আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাকে হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। একইসঙ্গে একরাম চৌধুরী ও ফেনীর এমপি নিজাম হাজারীর অস্ত্র তার ওপর ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমাকে হত্যার জন্য গতকালও একরাম চৌধুরীর বাড়িতে মিটিং করেছে।’ গতকাল শনিবার কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিকে কাদের মির্জার তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নোয়াখালী (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে কাদের মির্জা বলেন, ‘এমপি নিজাম হাজারী ও একরাম চৌধুরীর অস্ত্র আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। গতকাল রাতে একরাম চৌধুরীর বাড়িতে নিজাম হাজারী আর একরাম চৌধুরীর নির্দেশে আমাকে হত্যা করার জন্য সেখানে বৈঠক করে এবং আমার এখানে আবারও হামলা করার তারা একটা প্রক্রিয়া করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি না। আমি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল, তবে আমার অনুসারী নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এখন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, সরকার কী পদক্ষেপ নেবে এটা ওনাদের বিষয়। যতক্ষণ আমার এক ফোঁটা রক্ত আছে, আমি এখান থেকে সরব না।’
সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালীর রাজনীতি নিয়ে উত্তাপ ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত কাদের মির্জা তার ‘সত্যবচন’ চালিয়ে যাবেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। আমি সাহস করে সত্য কথা বলব। আমি অন্যায় অবিচার জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। এটা কার বিপক্ষে যায়, কার বিরুদ্ধে যায়, এটা আমার জানার বিষয় নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আবেদন, আপনি দলীয়ভাবে এখানে জেলা কমিটিকে তদন্তভার দিয়েছেন। এদের তো কমিটিটাও অনুমোদন হয়নি। এরা একপেশে। তারা তো সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। তাদের থেকে সঠিক তথ্য দল পাবে? সে জন্য আমি প্রস্তাব করছি, আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আমাদের এ অঞ্চলের নেতা সুজিত রায় নন্দী এই দু’জনসহ যাদের দেন ওনারা তদন্ত করে যদি আমি দোষী সাব্যস্ত হই, আমার দলের নেতাকর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন কাদের মির্জা।
কাদের মির্জার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি এমপি একরামের : কাদের মির্জার তোলা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমাকে দলের হাইকমান্ড থেকে বলা হয়েছে ওর (কাদের মির্জা) ব্যাপারে আমি যেন একটা কথাও না বলি। তবে এ অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। আমি গত তিন দিন, ১০ তারিখে জাবেদের (জেলা আওয়ামী লীগ নেতা) মেয়ের বিয়েতে ছিলাম। ১১ তারিখ চট্টগ্রাম গেলাম, ১২ তারিখ আমার ছোট ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে ছিলাম। আজ আমি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছি। তাহলে আমি কীভাবে বাড়িতে বসে তার বিরুদ্ধে মিটিং করছি? উনি কী বলে না বলে!’
কাদের মির্জার গ্রেপ্তার দাবি কোম্পানীগঞ্জ আ.লীগের : কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। গত শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ. লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনের ওপর নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গত ৯ মার্চের প্রতিবাদ সভায় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে সমাবেশে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শ্রমিক লীগ কর্মী আলাউদ্দিনের নৃশংস হত্যার মাস্টার মাইন্ড খুনি মির্জাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
কাদের মির্জার স্ট্যাটাস ভাইরাল : কাদের মির্জার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি প্রবাদের দু’টি লাইন উল্লেখ করে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে। গতকাল ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন, যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ’। এর সঙ্গে ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কোলাকুলির ছবিসহ দুটি ছবি যুক্ত করে দেন তিনি। স্ট্যাটাস দেওয়ার পর দু ঘণ্টার মধ্যে ৩ হাজার ৭শ ব্যক্তি লাইক, ৫৪৮ কমেন্ট ও ২০২টি শেয়ার হয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে স্ট্যাটাসে দেখা যায় ৫৪৮টি কমেন্ট করা হয়েছে। কমেন্ট বক্সে ইতিবাচক কমেন্টের পাশাপাশি নেতিবাচক কমেন্টও রয়েছে।
