বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসি কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ০৭:১৫ এএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান এ শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কাটিং সংযুক্ত করে ৭৯০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্রে উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতির ১১১টি অভিযোগের ফিরিস্তি দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় স্থান পায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সদুত্তর দিতে পারেননি অধ্যাপক মতিউর রহমান।

এদিকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ  দপ্তর শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার জন্য একটি বিশেষ মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (আজ) ইউজিসির তদন্ত কমিটির কাজকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই কথিত এ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

অধ্যাপক মতিউর বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে আমরা লজ্জিত এজন্য যে, গবেষণাপত্র বা গবেষণার ফল প্রকাশ না করে আমরা উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার শ্বেতপত্র প্রকাশ করছি। জনগণের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক, প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক তিন ক্যাটাগরিতে উপাচার্যের দুর্নীতিচিত্র আমরা জাতির সামনে তুলে ধরেছি। শ্বেতপত্রটি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসিতে পাঠানো হবে। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ অভিযোগ খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. কলিমউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। মূলত তাদের তদন্তকাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল। আমি এ শ্বেতপত্র প্রত্যাখ্যান করছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা, মনগড়া ও ভিত্তিহীন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব খাইরুল কবির সুমন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, মশিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত