সড়কে হাতি-আতঙ্ক

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ০১:০৫ এএম

রাঙ্গামাটির আসামবস্তি-কাপ্তাই পাহাড়ি সড়কে প্রায়ই হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, গত দুই বছরে এ সড়কে হাতির আক্রমণে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হাতির আক্রমণে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। এছাড়া বেশিরভাগ সময়ই এ সড়কে দেখা মিলছে হাতির।

গত দুই বছর ধরে এ সড়কে হাতির আতঙ্ক বেড়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, এক দশক আগে পাহাড়ি পথে কাপ্তাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিদিন এ সড়কে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। শহরের আসামবস্তি থেকে কামিলাছড়ি আগরবাগান প্রকল্প-২ পর্যন্ত প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার সড়কে হাতির তেমন চলাচল নেই। আগরবাগান প্রকল্প-২ থেকে নেভি ক্যাম্প সড়ক পর্যন্ত শেষ প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে হাতির চলাচল রয়েছে। এজন্য বন বিভাগ থেকে হাতি চলাচলের স্পটগুলোতে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। বর্তমানে খাদ্য সংকটের কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খাদ্যের সংস্থানে যাচ্ছে হাতি। আর এতে বিভিন্ন সময়ে হাতির মুখোমুখি হচ্ছে এ সড়কে যাতায়াতকারী।

কামিলাছড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা পর্যটন স্পট রাইন্যা টুগুনের নির্বাহী পরিচালক ললিত সি. চাকমা বলেন, ‘হাতি যেসব খাবার খায়, সেসব খাবার এখন তেমন একটা নেই। এতে তারা বাধ্য হয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় খাদ্য সংস্থানের জন্য যাচ্ছে। এছাড়া সড়কটি ঝোপঝাড়সহ জঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়ে থাকায় অনেক সময় দূর থেকে হাতিগুলোকে চোখে পড়ে না। আর এতে গাড়িগুলো হঠাৎ হাতির সামনে পড়ে।’

জীবতলী ইউপি চেয়ারম্যান সুদত্ত কারবারি বলেন, সর্বশেষ গত ১১ মার্চ হাতির আক্রমণে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মারা যায়। এদিকে কাপ্তাই সড়কটিতে হাতির আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সড়কটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইউএনও বেগম মুনতাসির জাহান জানিয়েছেন, ‘কাপ্তাই ইউনিয়নে পাঁচ দিনের ব্যবধানেই বন্যহাতির আক্রমণে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই এলাকার সর্বসাধারণের জন্য এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, বনে হাতির পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকার কারণে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় খাবারের সংগ্রহে যাচ্ছে। তাদের জন্য যে করিডর করা হয়েছে, সেসব জায়গায় মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি করছে, এতে খাদ্য সংকটে পড়েছে হাতি। হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। এছাড়া স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোলার ফেঞ্চিং বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আপাতত সড়কটি ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন এ বন কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত