নোয়াখালীর বসুরহাটে নিহত আলাউদ্দিন হত্যা মামলার ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় কোনো হত্যা মামলা হয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছে আদালত। নিহতের পরিবার আদালতে মামলার আবেদন করলেও তা গ্রহণ না করে এই ঘটনায় মামলা বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না তা জানাতে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৪ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান।
ওই আদালতে গতকাল মামলার আবেদন করেন নিহত আলাউদ্দিনের ছোট ভাই মো. এমদাদ হোসেন রাজু। এতে কাদের মির্জা, তার ছেলে মির্জা মাশরুর, ভাই শাহদাত হোসেনসহ ১৬৪ জনকে আসামি করার আর্জি জানানো হয়। আদালত গতকাল বিকেল ৩টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করে। পরে বিকেলে শুনানি শেষে বিচারক এস এম মোসলেহ্ উদ্দিন মিজান এই বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না জানাতে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে আদেশ দিয়েছেন। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন এমদাদ হোসেন রাজু।
গতকাল মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশিদ হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত পিটিশন মামলা গ্রহণপূর্বক একই বিষয়ে কোনো হত্যা মামলা কোম্পানীগঞ্জ থানায় হয়েছে কি না সেটা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার গুলিতে নিহত আলাউদ্দিনের ছোট ভাই রাজু গত বৃহস্পতিবার রাতে কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় নিয়ে যান। এজাহারে ত্রুটি থাকার অজুহাতে পুলিশ এজাহার গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন রাজু। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় শুক্রবার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে রাজু ও তার পরিবার। এ সময় তারা অভিযোগ করেন মামলার প্রধান আসামি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নাম বাদ দেওয়া হলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু ওই নাম বাদ না দেওয়ায় মামলা নেয়নি পুলিশ। তাই আদালতে মামলার আবেদন করেছেন তারা।
এমদাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আদালতে আসতে আমাকে পাহারা দেওয়া হয়েছে। অনেক কৌশল করে আসতে হয়েছে। এখন আমি কেন ভাই হত্যার বিচারের দাবি করছি তাই তাদের টার্গেট আমি। আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
