আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইটভাটা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২১, ০১:২৭ এএম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের ধোপাঘাটের একপাশ ঘেঁষে কর্ণফুলী নদী। অন্য পাশে প্রখ্যাত কোদালা চা-বাগান। কিন্তু কৃষিজমিতে সবুজ রোপা ইরি-বোরোর ক্ষেত লাগোয়া কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ইটের অবৈধ ৭৭টি ভাটা। উচ্চ আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভাটাগুলোয় বন্ধ হয়নি ইট উৎপাদন।

দেখা গেছে, কর্ণফুলীর তীর কেটে ইট তৈরির জন্য মাটির জোগান চলছে। মেহেরিয়া ব্রিকস নামের ভাটাটি সেকেলে পদ্ধতির, মাত্র ২০ ফুট উঁচু ড্রাম চিমনিতে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে তৈরি করছে ইট। উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের চলমান অভিযানের মধ্যেও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ইটভাটায় চলছে এসব কার্যক্রম।

এদিকে, গত ১৪ ডিসেম্বর ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর করা এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করে অবৈধভাবে পরিচালিত চট্টগ্রামের সব ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়। এরপর চট্টগ্রামে ইটভাটা বন্ধে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর। ইটভাটা বন্ধের এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রাউজানের ২৩টি ইটভাটার ১৮ জন মালিক আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করার আবেদন করেন।

রিটকারী মনজিল মোর্শেদ জানান, চেম্বার জজ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত সব ইটভাটা বন্ধ করার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেননি। পরে আরও কয়েকটি ইটভাটার মালিক আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হলেও কোনো স্থগিতাদেশ দেননি আপিল বিভাগের বিচারপতি। সর্বশেষ, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এক শুনানি শেষে পরবর্তী ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

রানীরহাট তহশিল অফিসের তহশিলদার নুরুল আবচার জানান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর, ইসলামপুর, দক্ষিণ রাজানগর এলাকায় মোট ৭৭ ইটভাটার মধ্যে ৪৩টিতে চলতি বছর ইট তৈরির কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া  লালানগর, পৌর এলাকা, বেতাগী, সরফভাটা এলাকায় আরও ১৬ ইটভাটা তৈরির কাজ চলমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ইটভাটা বন্ধে অভিযান চালাতে গেলেই বড় বড় মানুষের ফোন আসে। অনেকে রক্তচক্ষু দেখায়।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালায় ড্রাম চিমনির মেহেরিয়া ব্রিকস নামের ইটের ভাটায় পোড়ানোর জন্য মজুদ রয়েছে পাহাড়ি কাঠ। নদীর পাড় ও পাহাড় কেটে সংগৃহীত মাটির মজুদ।

ভাটার ম্যানেজার আবুল বশর জানান, ছোট পরিসরের জায়গা, তাই ড্রাম চিমনিতেই ইট তৈরির কার্যক্রম চলছে।

ভাটার মালিক কাউচার নুর লিটন বলেন, ভাটাটি ১১ জনের মালিকানায়। এলাকায় ইটের চাহিদা মেটাতে ভাটা চালাচ্ছি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, ড্রাম চিমনির ইটভাটার ব্যবহার অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ রয়েছে। কোদালা এলাকার ড্রাম চিমনিসহ অন্যান্য এলাকার অবৈধ সব ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত