বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানী ঢাকাকে। ব্লক রেইড, মোড়ে মোড়ে তল্লাশিসহ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে আবাসিক হোটেলগুলোতে। এর মধ্যে যেসব হোটেলে বিদেশি অতিথিরা থাকবেন সেসব হোটেলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নাগরিকদের অবস্থানে আপাত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ইতিমধ্যে বিষয়টি হোটেল কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানের ১০ দিন পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা জল, স্থল ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিদেশি অতিথিদের বহন করা বিমান শাহজালালে আসার পর আধা ঘণ্টা সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকবে।
এদিকে কোনো ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ফেইসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অতিথি-মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য, গুজব রটানো ও উসকানিমূলক পোস্ট না দিতে পারে সেদিকেও নজরদারি চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী গোষ্ঠী, ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের কর্মকা- কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
নিরাপত্তায় যেন কোনো ফাঁক না থাকে সেজন্য একগুচছ নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। আজ থেকে শুরু হওয়া নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পর্কে গতকাল মঙ্গলবার র্যাব ও পুলিশ আলাদা ব্রিফিং করে জানিয়েছে তাদের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে, র্যাবের বিভিন্ন চেকপোস্টে সম্প্রতি সংযুক্ত অন-সাইট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম ডিভাইস বসানো হবে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের চেহারা, নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। এছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের ডগ-স্কোয়াড, পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিও করা হবে।
এছাড়া নিরাপত্তায় কোনো নতুন পর্যবেক্ষণ থাকলে তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে তাৎক্ষণিক অবহিত করবে। সফররত বিদেশি অতিথিরা যেসব হোটেলে অবস্থান করবেনসেগুলোর ভেতরে ও বাইরে ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান পুলিশের এক কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওইসব হোটেলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কোনো নাগরিক অবস্থান করতে পারবে না। তাদের অন্য কোথাও থাকতে বলা হয়েছে। ওই হোটেলগুলোর আশপাশে ফুটপাতসহ ডিপ্লোম্যাটিক জোনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষও আকাশপথের নিরাপত্তায় নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ও তাদের সফরসঙ্গীদের আগমন বহির্গমন নির্বিঘœ করতে এয়ারপোর্ট এপিবিএন, প্রটেকশন বিভাগ, ডিএমপি ও এসবির সমন্বয়ে বিমানবন্দরে একটি কো-অর্ডিনেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানান আমরা নিরাপত্তার সব ধরনের প্রয়োজনীয়তা বুঝেই ব্যবস্থা নিয়েছি। যাতে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে আসা বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় পৌঁছামাত্র বিমানবন্দরে আধাঘণ্টা সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, কর্মরত কোনো পুলিশ সদস্য ভিভিআইপির মোটরকেডসহ কোনো বিদেশি অতিথির ছবি মোবাইল ফোন বা ক্যামেরায় ধারণ করতে পারবে না। অহেতুক কোনো পুলিশ সদস্যকে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থল ও হোটেলের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
গতকাল রাজারবাগে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিফ্রিং করেন আইজিপি। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি। প্রতিটি ভ্যানু নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার নির্দেশনা দেন আইজিপি।
মুজিববর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের হুমকি আছে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, কোনো ধরনের হুমকি নেই। এছাড়া কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
