শিশুদের প্রতি সহিংসতা নয়

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ১২:৪৬ এএম

ইসলাম শিশুকে স্নেহ-মমতা ও আদর-যতœ দিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে। শিশুদের প্রতি যেন কোনোভাবেই কঠোরতা প্রদর্শন করা না হয়। দারিদ্র্যের ভয়ে যেন তাদের হত্যা করা না হয় এ বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আর দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তাদের এবং তোমাদেরও রিজিক দিই। তাদের হত্যা করা নিশ্চয় মহাপাপ।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩১)।

এ আয়াতে শিশুদের হত্যার বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের যদি সঠিক শিক্ষা এবং উপযুক্ত সুবিধার মাধ্যমে তাদের পূর্ণ মানসিক ও নৈতিক বৃদ্ধিপ্রাপ্তিতে সাহায্য করা হয়, তাহলে তারা সমাজের সত্যিকার উপযোগী ও কার্যকর সদস্যে পরিণত হবে। অথচ আজ শিশুরা নিরাপদ নয়। নজিরবিহীন ও নির্লজ্জ নানা ঘটনা ঘটছে, যা  দেখলে ও শুনলে হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।

অথচ ইসলাম চৌদ্দশত বছর আগেই শিশু হত্যাকে বারণ করেছে। বিশ^নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রেও কোনো শিশুকে হত্যা করতে বারণ করেছেন। রণাঙ্গনে ভুলক্রমে কোনো ইহুদি শিশু মারা গেলে হুজুরপাক (সা.) সাহাবিদের প্রতি অনেক অসন্তুষ্ট হন। কারণ শিশুরা নিষ্পাপ ও মাসুম। তাদের কোনো পাপ নেই।

আমরা জানি, এ বিশ্বের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ পরম দয়ালু আল্লাহতায়ালা মহানবীকে (সা.) পাঠিয়েছেন। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। মানুষকে মানুষ হিসেবে কীভাবে সম্মান করতে হয় তা তিনি নিজ জীবনাদর্শের মাধ্যমে শিখিয়েছেন। শিশুর প্রতি উত্তম আচরণ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিশুকে স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান দেখায় না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি)।

একটি শিশু যখন জন্ম নেয়, তখন সে নিষ্পাপ থাকে। মানুষ সাধারণত শিশুদের ভালোবাসে এবং আদর করতে চায় আর শিশুদের ভালোবাসার প্রতি ইসলাম অনেক জোর দেয়। আসলে শিশু একটি বীজের মতো। আমরা যত বেশি এর পরিচর্যা করব, এর ফুল ও ফল তত ভালো হবে।

মহানবী (সা.) শিশুদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন ও ভালোবাসতেন, তাদের কাছে টেনে চুমু খেতেন, তাদের জন্য সর্বদা কল্যাণ ও মঙ্গলের দোয়া করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) একবার হাসানকে (তার দৌহিত্র শিশু) চুমু খেলেন। তখন নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন হজরত আকরা ইবনে হাবিস (রা.)। তিনি বিরক্তিভরে বললেন, ‘আমার ১০টি সন্তান রয়েছে, আমি কাউকে কোনো দিন চুমু খাইনি।’ এ কথা শুনে নবী করিম (সা.) তার দিকে তাকিয়ে করুণাভরে বললেন, ‘যে দয়া করে না সে দয়া পায় না।’ (বুখারি)।

শিশুদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসার কারণে শিশুরাও মহানবী (সা.)-কে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। হজরত আবদুল্লাহ বিন জাফর (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) যখন কোনো সফর শেষে বাড়িতে ফিরতেন, তখন বাচ্চারা তার আগমনের পথে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাত। একবার তিনি তার সফর থেকে এসে আমাকে তার বাহনের সামনে বসালেন। অতঃপর নাতি হাসান, হোসেন (রা.)-কে বাহনের পেছনে বসালেন।

তারপর আমাদের নিয়ে তিনি মদিনায় প্রবেশ করলেন (মুসলিম)। অবহেলিত শিশুদের প্রতি সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত সহানুভূতি একান্ত প্রয়োজন।

শিশুদের প্রতি সামান্য সহানুভূতির ফলে আমরা খুব সহজে পৃথিবীকে স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে পারি। কেননা, যে শিশুটি আজ অবহেলিত, হয়তো সেই শিশুই একদিন সমাজ ও দেশের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই তাকে যদি প্রথম থেকেই আমরা নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসি, তাহলে হয়তো সে দেশের জন্য গর্বের কারণ হবে। আল্লাহর পাঠানো প্রত্যেক নবী-রাসুলই শিশুদের আদর করতেন, ভালোবাসতেন, মূল্যায়ন করতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত