আজানে ঘুম ভেঙে যায় উপাচার্যের, কমল মাইকের শব্দ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ০৯:৪০ এএম

ভারতের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নালিশের পর মসজিদের মাইকের শব্দ কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে, মাথাব্যথা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংবাদ ভাষ্য প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলে।

সেখানে বলা হয়, রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংগীতা শ্রীবাস্তব। জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের সরকারি প্যাডে চিঠি লিখে নালিশ করেছেন, বাড়ির কাছের মসজিদ থেকে মাইকে ভোরের আজানের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। তারপর অনেক চেষ্টা করেও ঘুম আসছে না। মাথাব্যথা করছে। এর প্রভাব তার কাজে গিয়ে পড়ছে।

আদালতের রায় উদ্ধৃত করে বলেন, কোনো ধর্মই মাইক ব্যবহার করার কথা বলে না। তার দাবি ছিল, মাইক বন্ধ করতে হবে।

শুধু আজান নয়, রমজানের সময় সেহরি নিয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। চিঠিতে সংগীতা লেখেন, ঈদের আগে রাত চারটার সময় যে সেহরি হয়, তার আওয়াজেও অন্য মানুষদের অসুবিধা হয়।

তিনি এই চিঠি লিখেছিলেন কিছুদিন আগে। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে চিঠির প্রতিলিপি প্রকাশিত হওয়ার পরই প্রবল বিতর্ক শুরু হয়।

প্রশাসনের তরফ থেকে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

মসজিদের তরফ থেকে খালিলুর রহমান দ্য প্রিন্টকে জানান, তারা দুইটি লাউডস্পিকার অন্যদিকে বসিয়েছেন। মাইকের ভলিউম পঞ্চাশ শতাংশ কম করে দিয়েছেন। ফলে এখন আর কোনো সমস্যা নেই।

তার মতে, প্রশাসনিক ব্যক্তিদের না বলে, উপাচার্য যদি আগে তাদের জানাতেন, তা হলে অনেক আগেই তারা এই ব্যবস্থা নিতে পারতেন।

গৌতম হোড়ের ওই সংবাদ ভাষ্যে আরও বলা হয়, ভারতে পরিকল্পিত শহর সামান্য কয়েকটাই আছে। নতুন দিল্লি, চণ্ডীগড়, গান্ধীনগরের মতো অল্প কয়েকটা শহর। কলকাতা, মুম্বাইয়ের মতো পুরোনো শহরের নতুন কিছু পরিকল্পিত অংশ আছে। যেমন, সল্ট লেক, নিউ টাউন। বাকি সব জায়গায় নগরায়ণ হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। তাতে পরিকল্পনার বালাই নেই। ফলে আবাসিক এলাকার মাঝখানে গড়ে উঠেছে ধর্মস্থান। সে জন্য মসজিদের লাউডস্পিকার, সারা রাত জেগে হিন্দু জাগরণে মাইকের ব্যবহার অথবা দিনের বেলাতেও প্রবল জোরে মাইক বাজিয়ে ধর্মীয় শোভাযাত্রার কারণে মানুষের অসুবিধা হতে পারে। এই বাস্তবতা মেনে  নিয়ে সবদিক বিবেচনা করে, অসুবিধা যতটা কম করা যায়, সেটাই সব পক্ষের করা উচিত। এখানে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সেই কাজ করায় নিঃসন্দেহে ধন্যবাদের পাত্র হয়েছেন। তারা এই বিতর্ক বাড়তে না দিয়েও ভালো কাজ করেছেন।

কয়েক বছর আগে একইভাবে আজান নিয়ে আপত্তি জানান গায়ক সোনু নিগম। তখন বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত