নগদ ও বোনাসসহ মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই)। এ ক্ষেত্রে নগদ লভ্যাংশের হার আগের মতো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে সীমিত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এনবিএফআইগুলোর লভ্যাংশের সীমাসংক্রান্ত নির্দেশনায় এই পরিবর্তন এনে নতুন একটি সার্কুলার জারি করে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালের জন্য এনবিএফআইগুলোর লভ্যাংশের হার বেঁধে দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর প্রভাব পড়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরে; যা নিয়ে আলোচনা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
২০২০ সালের জন্য বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু নির্দেশনা মেনে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতায় ছিল। এমনিতে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটিতে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে পুরো খাতে। এসব ঘটনার জেরে নগদ অর্থ তথা আমানত কমে যেতে শুরু করে। এমন সময়ে শুধু নগদে লভ্যাংশ দিতে গিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। আবার ভালো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা অসন্তুষ্ট হন। কারণ তারা মনে করেন ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারে।
ওই নির্দেশনায় বলা হয়, প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছাড় নেওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শেয়ারগ্রহীতাদের কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। তবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন হবে। আবার যাদের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের ওপরে, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
এ ছাড়া যাদের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ ১০ শতাংশের চেয়ে কম কিন্তু খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, তারাও এ তালিকায় থাকবে।
ওই নির্দেশনায় সন্তোষজনক অবস্থায় থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে কোনো কথা উল্লেখ ছিল না, যা নিয়ে কিছুটা বিতর্কের জন্ম হয়।
কারণ হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, শুধু লভ্যাংশ দেওয়ার কথাটি উল্লেখ থাকলে এ সমস্যা হতো না। কেননা লভ্যাংশ দুইভাবে দেওয়া যায় নগদ ও বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ ও বোনাস উভয় প্রকার লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে এবং আগের সার্কুলারের অন্য সব নির্দেশনা বহাল রেখেছে।
এ ছাড়া গত ১৬ মার্চ ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ নীতিমালায়ও পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিএসইসির মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংকের ওই পরিবর্তন আনা হয়। ফলে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ পায়। নগদ লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সীমা করা হয় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
আগের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি ব্যাংকের মোট লভ্যাংশের সীমা ছিল ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে নগদ লভ্যাংশের সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। করোনা মহামারীর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করতে লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেশে বর্তমানে ৩৪টি এনবিএফআই রয়েছে। এর মধ্যে পিপলস লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একজন অবসায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অবসায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এনবিএফআইগুলোর মধ্যে ২৩টি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এ তালিকায় পিপলসও রয়েছে।
