পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কারিগরি কমিটি সুপারিশ উপেক্ষা করে ৩৮০টি কম্পিউটার কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ইতিমধ্যে এসব মানহীন কম্পিউটার বিতরণও করা হয়েছে। যদিও ঠিকাদারের কাছ থেকে সরবরাহ করা এসব মানহীন কম্পিউটারের নানা অসংগতি নিয়ে তা গ্রহণ না করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবেদনও দিয়েছিল এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি। এরপরও স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিল না থাকা বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যেসব দপ্তরে এ কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে সেখানে কার্যকারিতা ভালো নয় বলেও অভিযোগ এসেছে। প্রতিটি কম্পিউটার কিনতে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। এতে মোট ৩৮০টি কম্পিউটারের জন্য প্রায় ১ কোটি ৯০ টাকা খরচ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাপ্তরিক চিঠি চালাচালিতেও উঠে এসেছে এসব তথ্য। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানুর দাপ্তরিক টেলিফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সংস্থাটির এমআইএস শাখার অপারেশনাল প্ল্যানের অর্থায়নে ৩৮০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সেই অনুযায়ী কম্পিউটারের কারিগরি স্পেসিফিকেশন উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এসব কেনার পর তা যাচাইয়ের জন্য পরিচালককে (এমআইএস) চিঠি দিয়ে বলা হয়। সেই অনুযায়ী কম্পিউটার কাউন্সিলের ম্যানেজার (অপারেশন-১) প্রশিক্ষণ শাখাকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি যাচাই কমিটি করা হয়। এ কমিটি পরিচালক (এসআইএস) শাখার কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনে সরবরাহ করা কম্পিউটারগুলোর নানা ত্রুটি চিহ্নিত করে যাচাই কমিটির পক্ষ থেকে নেতিবাচক ও বিরূপ মন্তব্য করা হয়।
সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর (এমআইএস) এ বিষয়ে জানতে চান অতিরিক্ত পরিচালকের (ড্রাগস অ্যান্ড স্টোরস) কাছে। এরপর এ কর্মকর্তা একটি চিঠি দিয়ে তাকে বিস্তারিত জানান। সেখানে তিনি বলেন, ৩৮০টি কম্পিউটার সরবরাহ করেছে প্রমিক্সকো লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মালামাল না থাকার বিষয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির আপত্তি থাকার পরও তা মহাপরিচালকের অনুমোদন নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের সরবরাহ করা কম্পিউটারগুলো পরিবর্তন না করে সেগুলোর গুণগত মান ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন ঠিক আছে বলে দাবি করে। সেই সঙ্গে এগুলোর কার্যকারিতায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধান করে দেবে এমন একটি লিখিত অঙ্গীকার দেয়। এরপর আরও কিছু বিষয় যাচাই-বাছাই করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কম্পিউটারগুলোই গ্রহণ করে তা মাঠপর্যায়ে বিতরণ করে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি কম্পিউটার কিনতে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। এতে ৩৮০টি কম্পিউটারের জন্য প্রায় ১ কোটি ৯০ টাকা গুনতে হয়েছে সংস্থাটির।
যাচাই-বাছাই কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মালামালের মিল আছে কি না ও এর গুণগত মান দেখে আমরা লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলাম। সেখানে পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) অনুযায়ী এসব গ্রহণ করা ঠিক হবে না এমন মন্তব্য করেছে কমিটি। এরপর একটি মুচলেকা নিয়ে তা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে তো কমিটির পক্ষ থেকে তেমন কিছু আর করার থাকে না। ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে দায়িত্বে থাকবে। এখন যতটুকু জানি ৩৮০টি কম্পিউটার বিতরণের তালিকা নিয়ে কাজ করছে অধিদপ্তর। সব কম্পিউটারের কার্যকারিতা জানতে পারলেই সার্বিক চিত্র বের হয়ে আসবে। এখনো পর্যন্ত যেখানে এসব কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানুর দাপ্তরিক টেলিফোনে ফোন করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে একজন বলেন, ‘ম্যাডাম মিটিংয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পরে ফোন করেন।’ পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ ধরেননি। অতিরিক্ত পরিচালক (ড্রাগস অ্যান্ড স্টোরস) বর্তমানে সহকারী পরিচালক (সরবরাহ) মো. তসলিম উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সবকিছু শুনে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
