শিশুদেহে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ১১:৫২ পিএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শিশুদের শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি রয়েছে বলে দাবি করছেন একদল গবেষক। শিশুদের শরীরে প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর বয়সীদের তুলনায় অ্যান্টিবডি বেশি থাকে এমনটা বলা হচ্ছে। কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংস্থা শিশুদের শরীরে টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গোটা বিশ্বে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে শিশুদেরও টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। ওই প্রতিবেদনের পর জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনের করা সাম্প্রতিক এ গবেষণা শিশুদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ভাবনার খোরাক যুক্ত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গবেষণায় কেন এ মহামারীতে শিশুরা কম আক্রান্ত হচ্ছে, এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এখনো গবেষকরা সক্রিয় গবেষণার মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন যে, শিশুদের শরীরে থাকা অ্যান্টিবডিতে কী এমন রয়েছে যা তাদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখছে। এ রহস্য উন্মোচন করা গেলে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে করোনাবিরোধী লড়াইয়ে।

ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের একদল গবেষক ৩২ হাজার শিশুর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করেছে। গত বছর এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে নিউ ইয়র্ক শহরের শিশুদের ওপর ওই পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে ১ হাজার ২০০ শিশু ও ৩০ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে আগেই সংক্রমণ হয়েছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়, যার অনুপাত যথাক্রমে ১৭ ও ১৯ শতাংশ। এমন ফলাফলের পর বিজ্ঞানীরা আলাদা করে ৮৫ শিশু ও ৩ হাজার ৬৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নতুন করে পরীক্ষার আওতায় আনেন। তাদের শরীরে ইমিউনোগ্লোবুলিন জি (আইজিজি) অ্যান্টিবডি রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়। বিশেষ ধরনের এ অ্যান্টিবডি যা ভাইরাসের প্রোটিন স্পাইককে আবদ্ধ করে রাখে। এর ফলে কোষ আক্রান্ত হয় না।

এক থেকে দশ বছর বয়সী ৩২ শিশুর শরীরে আইজিজি অ্যান্টিবডির লেভেল ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১২৭ জন প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি ছিল। এরপর গবেষকরা এক থেকে ২৪ বছর বয়সী ১২৬ জন করোনা পজিটিভ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালান। এই ১২৬ জনের কেউই গুরুতর করোনায় আক্রান্ত হয়নি। ফলে এদের শরীরে নির্দিষ্ট ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপাদিত হয়েছে বা তা আগেই থেকেই রয়েছে কি না তা প্রাসঙ্গিকতা হারায়। এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা এক থেকে ১০ ও ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের শরীরে আইজিজি অ্যান্টিবডি টেস্ট করে। সেখানে দেখা যায় গড়ে শিশুদের শরীরে বিশেষ ওই অ্যান্টিবডিও উপস্থিতি অন্যদের তুলনায় দুইগুণ বেশি।

এ বিষয়ে গবেষকরা লেখেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের তুলনায় পেডিয়েট্রিক রোগীদের মধ্যে কভিড-১৯-এর ক্লিনিক্যাল প্রকাশগুলোর মধ্যে পার্থক্য আংশিকভাবে বয়স সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে।’ গত মাসে ন্যাচার কমিউনিকেশনসে আরেক গবেষণায় বলা হয়, শিশুদের শরীরে ‘ইনমেট’ ইমিউনিটি অন্যদের তুলনায় অধিক সক্রিয়। ইনমেট হলো ইমিউন সিস্টেমের প্রথম সুরক্ষা যা অ্যান্টিবডি উৎপাদনের আগেই ক্রিয়াশীল হয়।

ভিন্ন আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, শিশুদের শরীরের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডি বাড়তে থাকে। যদিও আমরা জানি বয়স্ক মানুষই এখন এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে গবেষকরা বলছেন, যেসব প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিক, হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারাই করোনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত