সেফ হোমের গ্রিল ভেঙে পালাল ১৪ নারী-কিশোরী

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ০১:৩৮ এএম

গাজীপুরে ‘মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র’ থেকে হেফাজতি ১৪ নারী ও কিশোরী পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার গভীর রাতে তারা পালিয়ে যায়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে পালিয়ে যাওয়া সাতজন হেফাজতিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য সাতজনের এখনো খোঁজ মেলেনি। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। হেফাজতিদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের স্টোরকিপার আবদুর রহমান মোল্লা বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে বাসন থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় হেফাজতে থাকা ১৪ জন হেফাজতি ভবনের দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল ভেঙে ওড়না দিয়ে রশি বানিয়ে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে আবাসন কেন্দ্র থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে গতকাল ভোরে জয়দেবপুর রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে চারজন বাকপ্রতিবন্ধী এবং তিনজন কেন্দ্রে আসার আগে ভবঘুরে ছিলেন।

জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন জানান, কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ২৮ জন নিবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন পালিয়ে যান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম) জাকির হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেফ হোম থেকে নিবাসী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে হেফাজতিদের পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে গতকাল বিকেলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ছায়েদুল ইসলাম, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রামচন্দ্র দাস এবং তার আগে সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রটি পরিচালনা করে। কেন্দ্রে জনবল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে যেন জনবল বাড়ানো হয়। কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য নারী আনসার সদস্য মোতায়েন করা যায় কি না সেটাও চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া কেন্দ্রের খাবারের মানও বাড়াতে হবে।’

অন্যদিকে পরিদর্শনকালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ছায়েদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ কেন্দ্রে একজন ফুলটাইম তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হেফাজতি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কেন্দ্রের নিবাসীদের খাবারের মান আরও বৃদ্ধি ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ সার্বিক বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এর আগে ২০১৮ সালে ৯ সেপ্টেম্বর এই কেন্দ্র থেকে একই কায়দায় ১৪ জন হেফাজতি পালিয়ে গিয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত