পাথরের জন্য চিম্বুক পাহাড়ে আগুন!

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ০১:৪৪ এএম

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে আগুনে পুড়েছে দুই হাজার একরের বেশি বন। পুড়েছে স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের ৫০০ একর ফল-বাগানও। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কোয়াইং ঝিরি এলাকায় লাগা আগুন প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে নিজে নিজেই নিভে যায়। তবে ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কয়েকজন ম্রোর স্বপ্নও। ম্রোদের অভিযোগ, পাথরের জন্য জঙ্গল পরিষ্কার করতেই আগুন দেওয়া হয় পাহাড়ে।

স্থানীয় লেংপাই ম্রো ও খাউরা ম্রো বলেন, এই আগুন এমনিতে লাগেনি। ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। রামরিপাড়ার পশ্চিম দিকে কোয়াইং ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করছে পাথর ব্যবসায়ীরা। তাদের জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগুন নিচের দিক থেকে ওপরে উঠেছে।

আগুন লাগানো বিষয়ে জানতে চাইলে পাথরশ্রমিক নূরু হোসেন বলেন, ‘প্রায় দুই মাস থেকে পাথর তুলছি। আমরাও পাহাড়ে আগুন দেখে ভয় পেয়ে গেছি। চারদিকে আগুন আর আগুন। কে বা কারা লাগিয়েছি আমরা জানি না। তবে আমরা পাথরশ্রমিকরা কেউ আগুন দিইনি।’

পাথর ব্যবসায়ী জয়নাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি লিজ নেওয়া জমির ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করছি। আর পাহাড়ে আগুন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমার লোকজন ম্রোদের বাগানে আগুন দেয়নি। কিছু ম্রো ছেলেমেয়ে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’

গত বুধবার চিম্বুকের রামরিপাড়ার ঘটনাস্থলে সরেজমিন গেলে টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফ্লোকান ম্রো, সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান উক্যমং মারমা ও রামরিপাড়া কারবারি (পাড়াপ্রধান) মেনরুম ম্রো জানান, আগুনে বাগান পোড়ার পাশাপাশি পানি সরবরাহের অন্তত ৬ হাজার ফুট পাইপ পুড়ে গেছে। এখন পানির সংকটে ভুগছেন তারা। টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইউএনও অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ দেওয়ার কথা রয়েছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌসিফ আহমেদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাসহ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লিখিত আকারে জমা দিতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত