বায়তুল মোকাররম এলাকায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

দেশ রূপান্তরের সাংবাদিকসহ হামলায় আহত ৯ সাংবাদিক

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ০৬:৩০ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম এলাকায় গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ-সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় হামলায় ৯ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এরমধ্যে অস্ত্রধারী চার ব্যক্তির ছবি তোলায় দেশ রূপান্তরের ফটোসাংবাদিক রুবেল রশীদকে পিটিয়ে অচেতন করা হয়। একই সঙ্গে তার ক্যামেরা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে রুবেল রশীদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত অপর ৮ সাংবাদিক হলেন, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের ফটোসাংবাদিক প্রবীর দাস ও এমরান হোসেন, প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক হাসান রাজা,  বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটোসাংবাদিক জয়িতা রায়, বিডিনিউজ২৪-এর ফটোসাংবাদিক মাহমুদ জামান অভি, সারাবাংলার ফটোসাংবাদিক হাবিবুর রহমান, ৭১ টিভির সাংবাদিক ইশতিয়াক ইমন, বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার দীপন দেওয়ান। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সাংবাদিক রুবেল রশীদ জানান, পুলিশ ও মুসল্লিদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকা ৪ জনের একটি ছবি তোলেন। এ সময় তাকে বেদম মারপিট করে ক্যামেরা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। মারধরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অপর ফটোসাংবাদিক ও সাংবাদিকরা রুবেল রশীদকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের সময় বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইটে মুসল্লিদের ধাওয়া খেয়ে বের হওয়ার সময় অস্ত্রি উঁচিয়ে বের হয়ে আসে চার যুবক। তারা পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার কেউ ছিল না। অস্ত্রধারী চার যুবকের ছবি তোলায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে রুবেল রশীদের পায়ে রড দিয়ে আঘাত করে। তিনি পড়ে যাওয়ার পর সারা শরীরে পিটিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে রুবেল রশীদের ক্যামেরা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে তিনি অনেক চেষ্টা করেও ব্যাগ ফিরে পাননি।

পায়ে ছররা গুলি লাগা সাংবাদিক দীপন দেওয়ান জানান, তিনি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন। এ সময় একটি ছররাগুলি এসে তার বাম পায়ে লাগে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সেটা বের করা হয়েছে। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিক ইমরান হোসেন জানান, ভেতরে হেফাজতকর্মীদের একটি অংশ ও বাইরে সরকার সমর্থিত কিছু নেতাকর্মী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল ছুড়ছিল। এসবের ছবি তোলার সময় তার মাথায় একটি ইট এসে লাগে। এতে রক্তক্ষরণ হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে সেলাই দেওয়া হয়।

বিডিনিউজের অভি জানান, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট লাগে তার বাম পায়ে। এতে রক্তক্ষরণ হয়। তিনি নিজেই বুলেটটি টেনে করেন এবং হাসপাতালে গিয়ে ড্রেসিং করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত